সাকিব আল হাসান নেই। তার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেটে একজন মানসম্পন্ন বাঁহাতি স্পিনারের অভাব প্রায়ই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তিন ফরম্যাটে নিয়মিত খেলার মতো বাঁহাতি স্পিনারের সংকটের পাশাপাশি দল এখন এমন একজনকে খুঁজছে, যিনি সাকিবের মতো বলের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও কার্যকর অবদান রাখতে পারবেন।
সাকিবের বাঁহাতি স্পিনের বৈচিত্র্য ও ব্যাট হাতে কার্যকর ভূমিকা বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। বর্তমানে দলের বিভিন্ন বিভাগে উন্নতি দেখা গেলেও তার মতো অলরাউন্ডারের ঘাটতি এখনো পূরণ হয়নি। সেই ঘাটতি পূরণে পাইপলাইনে থাকা ক্রিকেটারদের মধ্য থেকে সম্ভাবনাময় কাউকে তৈরি করার চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশ দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ জানালেন, তারা এমন একজন বাঁহাতি স্পিনার গড়ে তুলতে চান, যিনি সাকিবের মতো ব্যাটিংয়েও অবদান রাখতে পারবেন। তবে এমন ক্রিকেটার তৈরি করতে সময় প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।
মুশতাক বলেন, ‘আমরা তৈরি করছি। এটা নিয়ে ভাবছি। এমন বাঁহাতি স্পিনার খুঁজছি যে ব্যাটও করতে পারবে। হুট করে একটা বৃক্ষ তো গড়ে তুলতে পারবেন না। আমাদের এখন রানা আছে যে দেড়শ স্পিডে বল করতে পারে। এখন একজন বাঁহাতি স্পিনার দরকার যে ব্যাটও করতে পারে। আশা করি দ্রুত খুঁজে পাব।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে ফাস্ট বোলিংয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও স্পিনের গুরুত্ব কমেনি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাঝের ওভারে উইকেট এনে দেওয়ার ক্ষেত্রে মানসম্পন্ন স্পিনারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন মুশতাক। তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের পাশাপাশি সাদা বলের ক্রিকেটে রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ ও তানভীর ইসলামের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মুশতাক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাঝখানের ওভারে উইকেট আনার জন্য ভালো স্পিনার লাগবেই। তাইজুল, মিরাজরা আছে। সাদা বলে রিশাদ, নাসুম, তানভীররা। সবাই ভালো করছে, এ কারণেই আমরা আল্লাহর রহমতে এখন অনেক সিরিজ জিততে পারছি। অ্যাকশন, বায়োমেকানিক্স, ব্যালেন্স, টেকনিক্যাল ও টেকটিক্যাল দিক নিয়ে কাজ করা তাই জরুরী।’
এদিকে চলমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে এখনো বাংলাদেশের সামনে বেশ কিছু ম্যাচ বাকি। সেই ম্যাচগুলোতে ভালো ফল করে ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেই বিশ্বাস মুশতাকের। মিরপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ সম্ভব (ফাইনাল খেলা)। কেন নয়। ভালো খেলতে হবে, ভালো অবস্থানে আছি আমরা। বিশ্বাস রেখে খেলতে হবে।’
শুধু টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল নয়, সামগ্রিকভাবেই বাংলাদেশ এখন যেকোনো দলকে চ্যালেঞ্জ করার সামর্থ্য রাখে বলে মনে করেন এই স্পিন কোচ। নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
মুশতাক বিশ্বাস করেন বাংলাদেশ এখন যে কোনো দলকে হারাতে পারে, ‘আল্লাহর রহমতে আমরা এখন যে কোনো দলকে হারাতে পারি। এই বিশ্বাস সবারই প্রয়োজন। স্কিল আছে, খেলোয়াড় আছে, বিশ্বাসই আছে। এই বিশ্বাস থাকলে আপনি অস্ট্রেলিয়াকে অস্ট্রেলিয়ায়, ইংল্যান্ডকে ইংল্যান্ডে, দক্ষিণ আফ্রিকাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় হারাবেন।’
নিজেদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের উদাহরণও দিয়েছেন মুশতাক। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানে সবুজ পিচে আমরা টেস্ট হারিয়েছি। এরপর যখন ওরা এখানে এলো, টার্নিং পিচ নয়, গ্রিন পিচে খেলেই ওদের হারিয়েছি। স্পিনাররা গ্রিন পিচে বল স্পিন করাচ্ছে। হারার ভয় না থাকলেই আপনি জিততে পারবেন। আর কোচ হিসেবে এই মাইন্ডসেট পরিবর্তন করাই আমাদের কাজ। এটার কৃতিত্ব নির্বাচক, কোচ, সব খেলোয়াড়ের, সব স্টেকহোল্ডারের। তারাই বিশ্বাস করে, আমরা এখন যে কোনো দলকে চ্যালেঞ্জ করতে পারি।’
বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক সাফল্যের কৃতিত্ব এককভাবে নিজের দিকে নিতে চান না মুশতাক। দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে কৃতিত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি খুবই খুশি। আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। এটার কৃতিত্ব সবার- খেলোয়াড়, কোচ সবার। আমার একার নয়। সবাই একই পৃষ্ঠায় আছি। আমি যাদের নিয়ে কাজ করি তারা ম্যাচ জয়ের চেষ্টা করতে পারে যেকোনো মুহূর্ত থেকে। তাই যে কাউকেই আমরা চ্যালেঞ্জ করতে পারি।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চলতি মাসে বাংলাদেশের ব্যস্ততা না থাকলেও এশিয়ান গেমসে জাতীয় দলের আদলে গড়া একটি দল অংশ নিচ্ছে। সামনে রয়েছে টেস্ট ও ত্রিদেশীয় সিরিজও। এর আগে পাওয়া এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে পাইপলাইনে থাকা স্পিনারদের নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করছেন মুশতাক।



