ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে আলোড়ন তুলেছিল বাংলাদেশ। সেই জয়কে নিছক কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ফলে প্রথমবারের মতো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই এখন বড় স্বপ্ন দেখছে শান্তর দল।
জাতীয় দলের পেসার ও ডারউইন টেস্ট জয়ের অন্যতম নায়ক হাসান মাহমুদ মনে করেন, ঘরের মাঠে বাকি চারটি টেস্ট জিততে পারলে ফাইনালে যাওয়ার পথ তৈরি হতে পারে। এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট এখন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে ফাইনালের স্বপ্ন দেখাটাও স্বাভাবিক।
হাসানের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দলের পরিবেশ ও মানসিকতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে দলের। তিনি বলেন, ‘ধারাবাহিকতার হাওয়া এখন আমাদের পক্ষেই বইছে। দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও সার্বিক চিত্রটা এমন জায়গায় এসেছে, যেখানে বিশ্ব টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন নিজের প্রভাব বিস্তার করতে প্রস্তুত।’
এর আগে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ নিজেদের প্রত্যাশিত অবস্থানে যেতে পারেনি বলেও স্বীকার করেছেন হাসান। তবে বর্তমান দল সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে এসেছে বলে মনে করেন তিনি। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ‘আগে আমরা টেস্টে সেভাবে রাজত্ব করতে পারিনি, তবে এখন সেই সময়টা এসেছে। ঘরের মাঠে বাকি চারটি ম্যাচ জিততে পারলে, আমরা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলব না কেন? বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে ভাবনাটা এখন সেখানেই পৌঁছে গেছে।’
নিয়মিত টেস্ট খেলার সুযোগ পাওয়ায় দলের মানসিকতাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন এই পেসার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের উন্নতিও এখন বিশ্ব ক্রিকেটে স্বীকৃতি পাচ্ছে বলে দাবি তার। হাসান বলেন, ‘আমরা যখন থেকে নিয়মিত খেলা শুরু করেছি, তখন থেকেই দলের মানসিকতায় বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশ্ব ক্রিকেটও এখন স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে যে বাংলাদেশেও বৈশ্বিক মানের পেসার উঠে আসছে।’
ডারউইন টেস্টে নিজের সাফল্যের পেছনে নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন হাসান। প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের চাপে রাখতে এক জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বল করার পাশাপাশি শর্ট বল ও বাউন্সার দিয়ে তাদের পরীক্ষা নেওয়াই ছিল তার মূল পরিকল্পনা, ‘আমার কাজ ছিল কেবল নিখুঁত জায়গায় বোলিং করে যাওয়া এবং কোনো অবস্থাতেই রান করার সুযোগ না দেওয়া। শর্ট বল ও বাউন্সার দিয়ে তাদের পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনাতেই অনড় ছিলাম। রান হলে হবে, তা নিয়ে ভাবিনি।’
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতির পেছনে পেস বোলিংয়ের অগ্রগতিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন হাসান। পেসাররা ফিট থেকে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করতে পারলে এবং ব্যাটাররা বড় রান করতে পারলে দল আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস তার।



