জাপানে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পথচলায় শুরু থেকেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বৃষ্টি। একের পর এক ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাহত হয়েছে দলের অনুশীলনও। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে অবশেষে মিলেছে কাঙ্ক্ষিত রোদের দেখা। বুধবার রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে লিটন দাসদের শিবিরে।
জাপানের নিশিনে এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের টানা ছয়টি ম্যাচ বৃষ্টিতে মাঠে গড়ায়নি। এর মধ্যে চারটি ছিল কোয়ার্টার-ফাইনালের ম্যাচ। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের কোয়ার্টার-ফাইনালও বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। কোনো বল মাঠে না গড়ালেও আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। একইভাবে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাও শেষ চারে উঠেছে।
আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস ক্লাবে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হলে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা পাকিস্তান ফাইনালে উঠবে। সেমিফাইনাল কিংবা সুপার ওভার শেষ করা সম্ভব না হলে শীর্ষ বাছাই দলকে জয়ী ঘোষণা করার নিয়ম রয়েছে। ফাইনালও বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হলে একই নিয়মে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দল স্বর্ণপদকের দাবিদার হবে।
তবে সেমিফাইনালের আগে বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর, বুধবার আইচি-নাগোয়ায় রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছে দল। লিটন দাস, ইয়াসির আলী রাব্বি ও তানজিদ হাসান তামিমদের অনুশীলনে দীর্ঘ বৃষ্টির পর ফিরেছে স্বাভাবিক পরিবেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নিজেদের প্রস্তুত করার এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ।
অনুশীলন শেষে আবহাওয়া নিয়ে স্বস্তির কথা জানান ইয়াসির আলী চৌধুরী রাব্বি। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, জাপান আসার পর এই প্রথম আমরা রোদ দেখলাম। ভালো লাগছে যে আজ ভালোভাবে মাঠে নামতে পেরেছি। ইনশাআল্লাহ, কালও খেলার জন্য আমরা ভালো একটা আবহাওয়া পাবো।’
বৃষ্টির কারণে মাঠে নিয়মিত অনুশীলন করতে না পারলেও মানসিক প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখেনি বাংলাদেশ দল। বিকল্প হিসেবে ফুটবল খেলে নিজেদের মাঠে রাখার চেষ্টা করেছেন ক্রিকেটাররা। ইয়াসির বলেন, ‘অনুশীলন হয়নি, কিন্তু আমরা সব সময় নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত রেখেছি। চেষ্টা করেছি নিজেদের যতোটা মাঠে রাখা যায়। পুরো দলের একটা জিম সেশন ছিল, সেটা করতে পারিনি। তবে মাঠে এসেছিলাম, ফুটবল মাঠে অনুশীলন করেছি, ফুটবল খেলেছি। আমার মনে হয় যতোটুকু পেরেছি, মানসিকভাবে নিজেদের প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করেছি।’
সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। দলটিতে অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার থাকলেও অনভিজ্ঞ খেলোয়াড়ও রয়েছেন। অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৪৬টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। সাইম আইয়ুব খেলেছেন ৬৪টি টি-টোয়েন্টি। পাকিস্তানের লেগস্পিনার আবরার আহমেদ টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ বোলার। অন্যদিকে আকিফ জাভেদ, সাদ মাসুদ ও মাস সাদাকাতদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা নেই। পেসার আলী রাজাও এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাচ খেলেননি।
পাকিস্তানকে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন না ইয়াসির। বরং নিজেদের খেলায় মনোযোগ রাখার কথাই জানিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের সামর্থ্য সম্পর্কে তার বক্তব্য, ‘আমি নড়বড়ে বলব না। তারা (পাকিস্তান) খুবই দারুণ দল। সবাই ক্রিকেটের মাঠে যখন আমরা নামি, সবাই ভালো দল। যে ভালো খেলবে সেই জিতবে। আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলব ইনশা আল্লাহ।’
গত এক বছরে তিন সংস্করণের ক্রিকেটেই পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের। তবে এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে সেই অতীতকে সামনে না রেখে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকেই নজর বাংলাদেশ দলের। পাকিস্তানকে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে—এমন প্রশ্নে ইয়াসির বলেন, ‘একটা দলের সব সময় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকেই। সাধারণত যেসব আমাদের দলীয় পরিকল্পনা থাকে, সেগুলো নিয়েই কথা বলব।’
নির্দিষ্ট দিনে পরিকল্পনা ও প্রক্রিয়া ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করাকেই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় যে প্রত্যেকটা দলের সঙ্গে আমাদের প্রক্রিয়াটা ধরে রাখা উচিত। ইতিবাচক ক্রিকেট খেলা উচিত। এই দুইটা জিনিস প্রতিপক্ষ দলের বিপক্ষে আমাদের কাছে খুবই সাধারণ মনে হয়। বাকিটা উইকেট দেখে, আবহাওয়ার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে তখন খেলা যাবে ইনশা আল্লাহ।’
সেমিফাইনালের আগে বাংলাদেশ দলে এসেছে আরেকটি ধাক্কা। অসুস্থতার কারণে দেশে ফিরতে হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তকে। ফলে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারে তার অনুপস্থিতি প্রভাব ফেলতে পারে। তবে পরিস্থিতি নিয়ে না ভেবে দলের হাতে থাকা খেলোয়াড়দের নিয়েই এগিয়ে যেতে চান ইয়াসির। তার ভাষায়, ‘দুঃখের বিষয় শান্ত অসুস্থতার কারণে চলে যাচ্ছে। কিন্তু যেটা হয়ে গেছে, হয়ে গেছে। এখন আমাদের সামনে কী আসবে সেটার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। ব্যাটিং অর্ডারে যা আছে, সেটা নিয়েই ইনশাআল্লাহ আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়া ইয়াসিরের জন্যও ম্যাচটি হতে পারে দীর্ঘ বিরতির পর ফেরার উপলক্ষ। ২০১৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে তিনি খেলেছেন ৬টি টেস্ট, ৯টি ওয়ানডে ও ১৪টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি। সর্বশেষ গত জুলাইয়ে বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হলে প্রায় তিন মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ পাবেন এই ব্যাটার।



