পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে হেরে এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জপদক হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এবারই প্রথম পদক ছাড়া দেশে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের। ব্যর্থতার পর দলের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি টুর্নামেন্ট চলাকালে কোচ ও অধিনায়ককে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি এবং নারী ক্রিকেটের কাঠামোগত সংকট নিয়ে কথা বলেছেন হেড কোচ সারোয়ার ইমরান।
আজ নাগোয়ার করোগি স্পোর্টস পার্ক ক্রিকেট গ্রাউন্ডে পাকিস্তানের বিপক্ষে হারের পর শুরুতে সাংবাদিকদের সামনে আসতে চাননি সারোয়ার ইমরান। পরে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অনুরোধে মিক্সড জোনে এসে দলের ব্যর্থতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, দলের বর্তমান সমস্যার শুরু এশিয়া কাপ থেকেই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ক্লোজ ম্যাচে হারের পর দলের ভেতরে-বাইরে নানা আলোচনা ও খবরের প্রভাব এশিয়ান গেমসেও ছিল বলে জানান তিনি।
সারোয়ার ইমরানের ভাষায়, ‘আমাদের আসলে সমস্যার শুরু হয়েছে এশিয়া কাপ থেকে। আমরা এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ক্লোজ ম্যাচ হারি। হারার পর থেকেই আমাদের কাছে বিভিন্ন জায়গা থেকে নানারকম খবর আসতে শুরু করে। অনেক কথাই শুনেছি। আমরা ইন্দোনেশিয়া এবং ইউএই-র মতো দলের সঙ্গেও ১২০-১৩০ করতে পারিনি এবং ওই জিনিসটা এশিয়ান গেমসে বয়ে বেড়িয়েছি।’
এশিয়ান গেমসের আগে নিগার সুলতানা টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন। একই সময়ে কোচ সারোয়ার ইমরানের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি নবায়ন না হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। দলের ওপর এসব আলোচনার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেন কোচ। তবে এটিকে অজুহাত হিসেবে দেখছেন না তিনি।
সারোয়ার ইমরান বলেন, ‘এটা হয়ত দলের ওপর, খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। আমার মনে হয়, আমি শিওর না, তবে এটা একটা কারণ হতে পারে। তবে এটা ওনো অযুহাত নয়। বড় কথা হলো, আমরা কোনোভাবেই ওই লেভেলে যেতে পারছি না। আপনি দেখেন, যে কোনো দল ছয় মারছে সহজেই। আমাদের দল কিন্তু ছয় মারতেই পারছে না। যে আগে মারতো, এখন সে সেই জায়গাতেও নেই। সমাধানটা আমার মনে হয় সাইকোলজিক্যাল। বুস্ট আপ করতে হবে, আমরা বুস্ট আপ করতে পারছি না।’
এরপর টুর্নামেন্ট চলাকালে কোচ ও অধিনায়ককে নিয়ে এমন আলোচনা দলের পারফরম্যান্সে কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, সে প্রশ্নও তোলেন সারোয়ার ইমরান। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন একটা টুর্নামেন্ট খেলছি, হেড কোচ আর ক্যাপ্টেনদের আপনি সাইজ করে দিলেন, তো কীভাবে আপনি (ভালো কিছু) আশা করেন?’
পাকিস্তান ১৪৫ রানের লক্ষ্য দেওয়ার পরও বাংলাদেশ সেটি তাড়া করতে পারেনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে বাংলাদেশ ৩১ রানে হেরে যায়। ব্যাটিংয়ের জন্য সুবিধাজনক উইকেটে পাওয়ার প্লেতে প্রত্যাশিত রান তুলতে না পারাকেও হারের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সারোয়ার ইমরান, ‘আজকে আমরা যদি পাওয়ার প্লেতে ভালো ব্যাটিং করতে পারতাম, ম্যাচটা জেতা সম্ভব ছিল। পাওয়ার প্লেতে মোটামুটি ৪০-৪৫ এর মতো একটা সংগ্রহ… ৬০-৭০ লাগবে না, ৪০-৪৫। তারপর ১৫ ওভারে ১০০ রান। অথচ দল পাওয়ার প্লেতে ২৪ রান করছে, যেটা অনেক পিছিয়ে পড়া। পাওয়ার প্লের রানটাই আমাদের হারিয়েছে।’
বাংলাদেশের হয়ে এক প্রান্ত আগলে ৪৬ রান করেন সুপ্তা। ম্যাচ শেষে টপ অর্ডারের ব্যর্থতাকেই ১৪৫ রান তাড়া করতে না পারার বড় কারণ হিসেবে দেখান তিনি। সুপ্তা বলেন, ‘এই রান চেজ করার মতোই। টপ অর্ডার ভালো শুরু করতে পারলে কাজটা সহজ হতো।’
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের সামগ্রিক কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সারোয়ার ইমরান। তার মতে, জাতীয় দলের বাইরে পর্যাপ্ত খেলোয়াড় তৈরি না হওয়ায় দল একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আটকে আছে। বয়সভিত্তিক ও স্কুল ক্রিকেটের মাধ্যমে বড় পরিসরে খেলোয়াড় তৈরির প্রক্রিয়া গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন তিনি।
সারোয়ার ইমরান বলেন, ‘(নারী ক্রিকেট) একটা জায়গায় আটকে আছে। দল নেট প্র্যাকটিস করল, তারপর খেলতে গেল— এটা কিন্তু এই রকম না। এখানে প্রসেস আছে। শ্রীলঙ্কায় শত শত মেয়ে স্কুল ক্রিকেট খেলছে। আমাদের কিন্তু ওই রকম কোনো স্ট্রাকচার নেই। নতুন কোনো প্লেয়ার নেই, আমরা ৩০জনের বেশি প্লেয়ার বের করতে পারি না। এই জিনিসগুলো একটু খেয়াল করতে হবে। স্কুল ক্রিকেট, অনূর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেট, বয়সভিত্তিক ক্রিকেট এগুলো করতে হবে, ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি মেয়েদের আলাদা করতে হবে। এগুলো কিছুই করা হয় না। এগুলো যখনই করবে, তখনই আমাদের নতুন নতুন প্লেয়ার আসবে।’



