ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনটা বাংলাদেশ শেষ করেছে এগিয়ে থেকেই, তবে দিনের শেষটা অস্ট্রেলিয়ার জন্য কিছুটা স্বস্তির। প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল ঘাটতি নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নামা স্বাগতিকরা এবার আর আগের মতো ভেঙে পড়েনি। বাংলাদেশের বোলাররা দুই সেশনে চারটি উইকেট তুলে নিয়ে চাপ তৈরি করলেও শেষ বিকেলে ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারির দৃঢ় প্রতিরোধে ম্যাচে লড়াইয়ের আভাস দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
আজ টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ৫৩ ওভারে ৪ উইকেটে ১৬১ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের চেয়ে এখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে তারা। ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ এবং অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। দুজন মিলে ৯৪ বলে ৩৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে শেষ বিকেলটা ভালোভাবেই সামলেছেন।
অবশ্য দিনের শুরুতে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল বেশ শক্ত। দ্বিতীয় দিনের শেষে ১৫৩ রানের লিড নিয়ে অপরাজিত ছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনে সেই লিড আরও বড় করেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও টেলএন্ডাররা। মিরাজ ৬৫, হাসান মাহমুদ ১৪, তাসকিন আহমেদ ১৪ এবং তাইজুল ইসলাম ১৭ রান যোগ করেন। তাদের সম্মিলিত অবদানে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় ৪২৬ রানে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ পায় ২২৮ রানের বড় লিড।
বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ চার উইকেটের সবকটিই তুলে নেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার জশ হ্যাজলউড। পুরো ইনিংসে তাঁর শিকার ছয় উইকেট। বাংলাদেশের ব্যাটিংকে শেষ পর্যন্ত থামাতে পারলেও ২২৮ রানের লিডের কারণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখনও ছিল সফরকারীদের হাতে।
বড় লক্ষ্যসদৃশ ঘাটতি নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নামা অস্ট্রেলিয়াকে শুরুতেই ধাক্কা দেন হাসান মাহমুদ। মাত্র ৩৭ রানের মধ্যেই দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন তিনি। জেক ওয়েদারাল্ডন কোনো রান না করেই বোল্ড হন। এরপর ট্র্যাভিস হেডকেও বোল্ড করে সাজঘরের পথ দেখান বাংলাদেশের এই পেসার।
শুরুতেই দুই উইকেট হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভ স্মিথ। দুজন মিলে ৩৬ রানের জুটি গড়ে দলকে কিছুটা স্থিতিশীল করেন। কিন্তু চা-বিরতির পর সেই জুটি ভেঙে দেন তাইজুল ইসলাম। দারুণ এক ডেলিভারিতে লাবুশেনকে বোল্ড করেন তিনি। ৩১ রান করে ফিরতে হয় অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটারকে।
এরপর স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন বাংলাদেশের জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ান। দুজনের প্রতিরোধও অবশ্য খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। বিকেলের সেশনের মাঝামাঝি সময়ে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান স্মিথ। ৮৮ বলে ৪৪ রান করেন তিনি।
স্মিথ ফেরার পরও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। দিনের বাকি সময়টা সতর্কতার সঙ্গে ব্যাট করেন গ্রিন ও ক্যারি। বাংলাদেশের বোলারদের ঝুঁকি না নিয়ে ধীরে ধীরে ব্যবধান কমাতে থাকেন তারা। শেষ পর্যন্ত ৩৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি নিয়ে মাঠ ছাড়েন দুজন।
তৃতীয় দিনের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া আগের দুই দিনের তুলনায় নিঃসন্দেহে ভালো খেলেছে। বাংলাদেশের বোলাররা চারটি উইকেট তুলে নিলেও স্বাগতিকদের কেউ এখনো ফিফটির দেখা পাননি। স্মিথের ৪৪, গ্রিনের অপরাজিত ৪৩ এবং লাবুশেনের ৩১ রানের ছোট ছোট ইনিংসই অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছে।
বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ ৩৩ রানে দুই উইকেট নিয়েছেন। তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ পেয়েছেন একটি করে উইকেট। তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন উইকেট না পেলেও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের চাপে রাখতে ভূমিকা রেখেছেন।
সব মিলিয়ে তৃতীয় দিনের শেষে ম্যাচের সমীকরণে বাংলাদেশই এগিয়ে। তবে দিনের শেষ সেশনে গ্রিন ও ক্যারির প্রতিরোধ অস্ট্রেলিয়াকে নতুন করে লড়াইয়ের আশা দেখাচ্ছে। চতুর্থ দিনের শুরুতে বাংলাদেশের প্রথম কাজ হবে এই জুটি দ্রুত ভেঙে দেওয়া। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য হবে গ্রিন-ক্যারির ব্যাটে ভর করে ৬৭ রানের ঘাটতি মুছে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া।



