দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এবার যোগ হলো নতুন এক প্রতীক। জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) আট দলের অধিনায়কদের মাথায় আনুষ্ঠানিকভাবে পরিয়ে দেওয়া হয়েছে ব্যাগি ক্যাপ। সাবেক ক্রিকেটারদের হাত থেকে সেই ক্যাপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে শুরু হলো নতুন এক অধ্যায়ের।
টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে ব্যাগি ক্যাপের যে ঐতিহ্য, সেটিকেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত করার বার্তা যেন ফুটে উঠল এই আয়োজনে। খুলনার অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনও দেখছেন বিষয়টিকে সেই দৃষ্টিতেই। ক্যাপের রঙ নিয়ে আলাদা কোনো আক্ষেপ নয়, বরং নিজেদের পরিচয়কে গ্রহণ করাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
মিঠুনের ভাষায়, ‘আমরা ঘরোয়া ক্রিকেট খেলিই তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রভাব রাখার জন্য। টেস্টের কারণেই যেহেতু প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলাটা আসছে, ব্যাগি ক্যাপটা তো আপনারা জানেন টেস্টের একটা প্রতীক। এখানে রঙটা ম্যাটার করে না। আমরা যে রঙই পেয়েছি সেটাকেই আমরা ওউন করব। অন্তত আমরা জানতে পারলাম আমাদের একটা রঙ আছে। এটাকে ওউন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের মানের সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটের উন্নতির সম্পর্কটাও তুলে ধরেছেন মিঠুন। এতদিন যে কথাটি অনেকটা তত্ত্বের পর্যায়ে ছিল, এবার সেটিকে বাস্তব মানদণ্ডে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছেন তিনি।
মিঠুন জানান, ‘যে দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট যত ভালো সেই দেশের টেস্ট ক্রিকেট ততো ভালো। এটা শুধু মুখে মুখেই এতদিন হয়েছে, সেটার মানদন্ড যেরকম হওয়া উচিত সেটা কখনোই হয়নি। কিন্তু এবার হচ্ছে এজন্য খেলোয়াড়রা সবাই খুশি।’
নতুন মৌসুমে মাঠের লড়াইও খুব বেশি দূরে নয়। চার দিনের ম্যাচ দিয়ে আগামী ৩ অক্টোবর শুরু হবে ২৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম শ্রেণির আসর। আট বিভাগীয় দলের অংশগ্রহণে প্রায় দুই মাস ধরে চলবে এই প্রতিযোগিতা। সাত রাউন্ডে প্রতিটি দল খেলবে সাতটি করে ম্যাচ, মোট ম্যাচ হবে ২৮টি। শেষ রাউন্ডের ম্যাচ দিয়ে ১৭ নভেম্বর শেষ হবে এবারের এনসিএল।
উদ্বোধনী রাউন্ডেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুরের মুখোমুখি হবে ঢাকা। একই সময়ে খুলনায় লড়বে খুলনা ও বরিশাল, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে সিলেট ও ময়মনসিংহ। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে খেলবে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী।
এবারের সূচিতে দেশের বিভিন্ন ভেন্যুতেও ছড়িয়ে পড়ছে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে মোট চারটি ম্যাচ। এ ছাড়া সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বগুড়া ও কক্সবাজারেও হবে এনসিএলের ম্যাচ।
প্রথম রাউন্ড ৩ থেকে ৬ অক্টোবর। এরপর দ্বিতীয় রাউন্ড ১০ থেকে ১৩ অক্টোবর, তৃতীয় রাউন্ড ১৭ থেকে ২০ অক্টোবর, চতুর্থ রাউন্ড ২৪ থেকে ২৭ অক্টোবর এবং পঞ্চম রাউন্ড ৩১ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর। ষষ্ঠ রাউন্ড হবে ৭ থেকে ১০ নভেম্বর। সবশেষ সপ্তম রাউন্ডের ম্যাচ মাঠে গড়াবে ১৪ থেকে ১৭ নভেম্বর।
মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি এবারের আয়োজনের শুরুতেই যে বার্তাটি সামনে এসেছে, সেটি অবশ্য পরিসংখ্যানের নয়-প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের পরিচয় ও মর্যাদার। অধিনায়কদের মাথায় ওঠা ব্যাগি ক্যাপ সেই ভাবনারই প্রতীক। আর সেই প্রতীককে নিজেদের করে নেওয়ার প্রত্যয় মিঠুনের কথায়ও স্পষ্ট।
এদিকে ‘এ’ দলের হয়ে খেলার সুযোগ না পাওয়ার প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন খুলনার অধিনায়ক। সাম্প্রতিক সফরে তিন ম্যাচের দুটিই না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আক্ষেপের চেয়ে বাস্তবতাকেই সামনে রেখেছেন তিনি। মিঠুন বলেন, ‘অবশ্যই, খেলতে পারলে তো ভালো হতো। আপনারা জানেন ওইখানে তিনটা ম্যাচের মধ্যে দুইটা ম্যাচই কিন্তু হয়নি। হয়তবা সবগুলো ম্যাচ হলে সুযোগ আসতে পারতো। যেহেতু ম্যাচ হয়নি সেটা নিয়ে কথা বলার মতো আসলে কিছু নেই।’



