জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম রাউন্ডে বরিশাল ও খুলনার ম্যাচ ছাড়া বাকি তিন ম্যাচই শেষ হয়েছে ড্রয়ে। এর মধ্যে শেষ দিনে তিন ইনিংসেই নিষ্পত্তি হয়েছে ঢাকা-রংপুর, সিলেট-ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম-রাজশাহী ম্যাচ। মিরপুরে অধিনায়ক আকবর আলীর দৃঢ়তায় হার এড়িয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর।
শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে আজ ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে রংপুর। আগের দিনের শেষ বিকেলে কোনো রান না তুলেই তিন উইকেট হারানোর পর শেষ দিনের শুরুতেও আরও দুটি উইকেট হারায় তারা। মাত্র ৪২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদের মুখে পড়ে রংপুর।
সেই পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক আকবর আলী। ষষ্ঠ উইকেটে চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে ৬৬ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপদ থেকে বের করে আনেন তিনি। রিজওয়ান করেন ৬৯ বলে ২৭ রান। এরপর লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান আকবর। শেষ পর্যন্ত ১৩২ বলে ৬৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে আরিফ আহমেদের বলে আউট হন তিনি।
আকবরের লড়াইয়ের সুবাদে রংপুর দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৯ রান সংগ্রহ করে। প্রথম ইনিংসে ৫৬ রানের লিড পাওয়ায় ঢাকার সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ২০৬ রান। তবে ম্যাচ জেতার মতো সময় পায়নি ঢাকা। ৪.১ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৯ রান তোলার পর আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর খেলা শুরু করা সম্ভব না হওয়ায় ম্যাচটি ড্র ঘোষণা করা হয়।
সিলেটে অবশ্য ময়মনসিংহের ব্যাটিংয়েই শেষ হয়ে যায় ম্যাচের ভাগ্য। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিকরা প্রথম ইনিংসে ৩২৭ রান করার পর ময়মনসিংহ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে। চতুর্থ দিন শুরুতে ৮৬ রানে অপরাজিত থাকা মাহফিজুল ইসলাম সেঞ্চুরি তুলে নেন। ১৯৭ বলে ঠিক ১০০ রান করে নাঈম আহমেদের বলে বোল্ড হন তিনি।
মাহফিজুলের পর ময়মনসিংহের ইনিংসকে বড় করেন আরিফুল ইসলাম ও আবদুল মজিদ। দুজনের ব্যাটে ৮১ রানের জুটি গড়ে ওঠে। আরিফুল ১২৯ বলে ৭২ রান করে নাঈম আহমেদের বলে স্টাম্পড হন। মজিদ ১৫৫ বলে ছয়টি চার ও দুটি ছক্কায় করেন ৮৭ রান। তাকেও বোল্ড করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন সিলেটের অফ স্পিনার নাঈম।
শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ময়মনসিংহ ইনিংস ঘোষণা না করেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাদের লিড দাঁড়ায় ৩৫৬ রান। দুই অধিনায়কের সম্মতিতে ম্যাচ রেফারি এরপর ম্যাচটি ড্র ঘোষণা করেন। সিলেটের হয়ে নাঈম ৪০ ওভারে ১১৯ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন।
চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর ম্যাচও শেষ হয়েছে তিন ইনিংসে। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে রাজশাহী ৩৬৪ রান করার পর সাদিকুর রহমান ও মাহমুদুল হাসানের সেঞ্চুরিতে চট্টগ্রাম জবাব দেয় ৩৯৩ রানে।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহী খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না। জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার সাব্বির রহমান সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ২২৪ রানেই থেমে যায় রাজশাহীর ইনিংস। চট্টগ্রামের দুই স্পিনার আশরাফুল ইসলাম ও হাসান মুরাদ তিনটি করে উইকেট নেন। এরপর আর ফল বের করার মতো সময় না থাকায় ম্যাচটিও ড্র হয়।
এদিকে প্রথম রাউন্ডে বরিশাল ও খুলনার ম্যাচই একমাত্র ম্যাচ হিসেবে ফল পেয়েছে। বাকি তিন ম্যাচ ড্র হওয়ায় প্রথম রাউন্ডে পয়েন্ট ভাগাভাগির সংখ্যাই বেশি। শেষ দিনে আকবরের ব্যাটিং দৃঢ়তা যেমন রংপুরকে হার থেকে বাঁচিয়েছে, তেমনি নাঈমের পাঁচ উইকেট ও মাহফিজুলের সেঞ্চুরিও সিলেট-ময়মনসিংহ ম্যাচের শেষ দিনের উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স হয়ে থাকল।



