আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত এক দিন কাটিয়েছেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার ব্যাটার লিটন কুমার দাস। তিনবার জীবন পেয়ে শেষ পর্যন্ত তুলে নিয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পূর্ণ করেছেন ৯ হাজার রানের মাইলফলক। লিটনের শতক ও মেহেদী হাসান মিরাজের কার্যকর ইনিংসে ভর করে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য আফগানিস্তানের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ৪৭৯ রান।
আজ চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই বাংলাদেশের হাতে। বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেট হারিয়ে ৫১ রান তুলেছে আফগানিস্তান। ফলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন আর ৮ উইকেট।
দিনের শুরুতে ৬ উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরুতেই দুইবার জীবন পান লিটন। কায়েস আহমেদের বলে কাট করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ তুললেও ১৪ রানে বেঁচে যান তিনি। চার ওভার পর একই বোলারের বলে সোজা ড্রাইভে ফিরতি ক্যাচ দিয়েও রক্ষা পান ২৬ রানে। এবার সুযোগ হাতছাড়া করেন বোলার নিজেই।
দুইবার জীবন পাওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি লিটনকে। নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাটিং করে একের পর এক রান তুলতে থাকেন তিনি। কখনো নিখুঁত টাইমিং, কখনো আক্রমণাত্মক শটে চাপে রাখেন আফগান বোলারদের। অন্য প্রান্তে মিরাজও দারুণ সঙ্গ দেন তাঁকে।
লাঞ্চ বিরতিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৩৩৭ রান। লিটনের নামের পাশে তখন ৮১ রান। বিরতির পরও সাবলীল ব্যাটিং চালিয়ে যান এই ডানহাতি ব্যাটার। ১০৫তম ওভারের পঞ্চম বলে কায়েস আহমেদের ডেলিভারি কাট করে চার মেরে শতক পূর্ণ করেন তিনি। ১১৫ বলে সাজানো ইনিংসে ছিল ১৪টি চার।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিনবারের চেষ্টায় প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পেলেন লিটন। এটি তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম শতক। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। বাংলাদেশের পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন লিটন। তাঁর আগে এই অর্জন রয়েছে মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের।
তবে সেঞ্চুরি করার পর বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি লিটন। মোহাম্মদ সেলিমের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক ইকরাম আলী খিলের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ১১৭ বলে ১৪টি চারে ১০২ রান করে ফেরেন সাজঘরে। তাঁর বিদায়ের পরপরই ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
বাংলাদেশের বড় সংগ্রহ গড়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে লিটন ও মিরাজের সপ্তম উইকেট জুটি। দুজনে মিলে ২০১ বলে যোগ করেন ১৪৯ রান। মিরাজ তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১তম অর্ধশতক। ৯৭ বলে পাঁচটি চারে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। আফগানিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ সেলিম, ইয়ামিন আহমাদজাই ও জিয়াউর রহমান দুটি করে উইকেট নেন।
৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জেতা আফগানিস্তানের জন্য কঠিন এক পরীক্ষা। টেস্ট ক্রিকেটে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন উইকেটে জিতে এই কীর্তি গড়েছিল দলটি।
চার শতাধিক রান তাড়া করে টেস্ট জয়ের ঘটনা ঘটেছে মাত্র চারবার। সর্বশেষ ২০০৮ সালে চেন্নাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ৪১৪ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে ছয় উইকেটে জিতেছিল ভারত। এর আগে ১৯৭৬ সালে পোর্ট অব স্পেনে ৪০৪ রান তাড়া করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল ভারত। একই বছর নয়, ১৯৪৮ সালে লিডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪০৪ রান তাড়া করে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া।
এবার আফগানিস্তানের সামনে লক্ষ্য ৪৭৯ রান। টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম কঠিন লক্ষ্য পেরোতে হলে ব্যাট হাতে অসাধারণ কিছু করতে হবে তাদের। কিন্তু শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গেছে দলটি।



