২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ড্রয়ে বাংলাদেশের সামনে একসঙ্গে হাজির হয়েছে কয়েকটি পরিচিত ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের ‘বি’ গ্রুপে জায়গা হয়েছে কোয়ালিফায়ার ‘বি’ দলেরও। বিশ্বকাপের প্রায় এক বছর আগে গ্রুপের ছবি পরিষ্কার হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের চোখেও এটি হয়ে উঠেছে কঠিন লড়াইয়ের মঞ্চ।
তবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ওয়ানডে পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিলে চিত্রটা একেবারে একপেশে নয়। গত এক বছরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। মাঝখানে জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হারলেও ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং-তিন বিভাগেই উন্নতির ছাপ রেখেছে দলটি। এই সময়ে মুস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানার মতো বোলারদের ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার ঘটনাও এসেছে।
আইসিসির পক্ষ থেকে বিশ্বকাপের গ্রুপ ঘোষণা হওয়ার পর এক অনুষ্ঠানে ফিঞ্চ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের দিকটিও তুলে ধরেন। গ্রুপটির শক্তিমত্তা বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘দারুণ একটা গ্রুপ হতে যাচ্ছে এটা। বিশেষ করে এই গ্রুপে বাংলাদেশ আছে। কোয়ালিফায়ারের একটা দলও খেলবে।’
বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা নিউজিল্যান্ডকে নিয়েও ফিঞ্চের আলাদা করে সতর্কবার্তা আছে। বিশ্বকাপে একসময় সেমিফাইনালে থেমে যাওয়া দলটি এখন নিয়মিত আইসিসি ইভেন্টের শেষ দুইয়ে জায়গা করে নিচ্ছে। ২০১৫ ও ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে টানা দুইবার রানার্সআপ হওয়ার পর ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ফাইনাল খেলেছে কিউইরা। শেষ দুই ফাইনালেই তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত।
ফাইনালে উঠেও শিরোপা না পাওয়ার ধারাবাহিকতা নিউজিল্যান্ডকে ফিঞ্চের চোখে ছোট করছে না। বরং বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে দলটির ধারাবাহিকতাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। আইসিসির অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘প্রত্যেক বিশ্বকাপেই নিউজিল্যান্ডকে খুব কম লোকই ফেবারিট মনে করেন। তবে প্রত্যেকবারই তারা সেমিফাইফানাল-ফাইনালে খেলে। সব সময়ই দুর্দান্ত খেলে।’
বাংলাদেশের গ্রুপের আরেক বড় নাম দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার আবার বিশ্বকাপটি হচ্ছে তাদের ঘরের মাঠে। সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে প্রোটিয়ারা। বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, কারণ বিশ্বকাপের আগে নভেম্বরেই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে তাদের।
ঘরের মাঠের সুবিধা, সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়-দক্ষিণ আফ্রিকাকে এই কারণেই এগিয়ে রাখছেন ফিঞ্চ। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা ঘরের মাঠে খেলবে। তারা সত্যিই দুর্দান্ত। অভিজ্ঞ-তারুণ্যের মিশেলে একটা দল।’
২০২৭ বিশ্বকাপের কাঠামোও এবার আলাদা মাত্রা যোগ করছে। ১৪ দলের এই টুর্নামেন্টে সরাসরি খেলা ১১ দলের সঙ্গে যোগ হবে কোয়ালিফায়ার পর্ব থেকে উঠে আসা তিন দল। প্রথমে কোয়ালিফায়ার তিন দল রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে খেলবে। সেখান থেকে একটি দল মূল পর্বে জায়গা করে নেবে। এরপর ১২ দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে।
বাংলাদেশ রয়েছে ‘বি’ গ্রুপে। সেখানে প্রতিটি দলকে একে অপরের বিপক্ষে খেলতে হবে। দুই গ্রুপের শীর্ষ তিনটি করে দল যাবে পরবর্তী সুপার সেভেনে। এর সঙ্গে দুই গ্রুপ মিলিয়ে পরের সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া আরেকটি দলও যোগ দেবে। অর্থাৎ মূল গ্রুপ পর্ব থেকেই পরের ধাপে ওঠার লড়াইয়ে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব থাকবে।
অন্যদিকে ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তান, জিম্বাবুয়ে ও কোয়ালিফায়ার ‘এ’। দুই গ্রুপের লড়াই শেষে সাত দলের সুপার সেভেন পর্ব পেরিয়ে হবে সেমিফাইনাল।
বাংলাদেশের সামনে তাই শুধু গ্রুপের প্রতিপক্ষ নয়, বিশ্বকাপের নতুন কাঠামোটিও বড় পরীক্ষা। গ্রুপে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের মতো দল থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বড় দলগুলোর বিপক্ষে বাংলাদেশের সাফল্য তাদের লড়াইয়ের জায়গাটি আগের চেয়ে শক্ত করেছে। শেষ পর্যন্ত সেই উন্নতি বিশ্বকাপের মঞ্চে কতটা কাজে আসে, সেটিই হবে বাংলাদেশের জন্য বড় প্রশ্ন।
২০২৭ বিশ্বকাপের দুই সেমিফাইনাল হবে ১৭ ও ১৮ নভেম্বর কেপটাউন ও সোয়ানে স্টেডিয়ামে। ২১ নভেম্বর জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে হবে ফাইনাল।



