জুলাই মাসে ক্রিকেটের তিন ভিন্ন রূপ দেখেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গন। বাংলাদেশের তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে ছিল ধারাবাহিকতার ছাপ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জাস্টিন গ্রিভস ব্যাট-বল দুটোতেই ছিলেন কার্যকর, আর ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক টি-টোয়েন্টিতে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন। তিনজনের সেই পারফরম্যান্সই এবার এনে দিয়েছে আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা।
তিন ক্রিকেটারের মধ্যে তামিমের গল্পটা সবচেয়ে বেশি ধারাবাহিকতার। জিম্বাবুয়ে সফরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি-দুই সিরিজেই ব্যাট হাতে বাংলাদেশের সেরা পারফর্মার ছিলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ওয়ানডেতে তিন ম্যাচে ১৫৯ রান করেছেন ৫৩ গড়ে। এরপর টি-টোয়েন্টিতেও তার ব্যাট থামেনি। পাঁচ ম্যাচে ১৪০ রান, গড় ৭০ এবং স্ট্রাইক রেট ১২৭.২৭। দুই ফরম্যাট মিলিয়ে জুলাইয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকও তামিম।
বাংলাদেশ যখন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাদা বলের ক্রিকেটে নিজেদের ছন্দ খুঁজছিল, তখন তামিম ছিলেন সেই ছন্দের অন্যতম বড় ভরসা। তার ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল এক ম্যাচের সাফল্যের ওপর নির্ভর না করে পুরো সিরিজজুড়ে পারফরম্যান্স ধরে রাখা। ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টিতেও একই ধারাবাহিকতা দেখিয়ে মাসসেরার লড়াইয়ে নিজের জায়গা শক্ত করেছেন তিনি।
তবে তামিমের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সম্ভবত জাস্টিন গ্রিভস। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই অলরাউন্ডার জুলাইয়ে শুধু রান কিংবা উইকেট-একটি বিভাগে নয়, দুই জায়গাতেই নিজের ছাপ রেখেছেন।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে ১৮০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস দিয়ে মাসের শুরুটা করেছিলেন গ্রিভস। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে দেখিয়েছেন তার বোলিং সামর্থ্য। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও পেয়েছেন দুই উইকেট। তাঁর এই বোলিং নৈপুণ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ম্যাচ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জুলাইয়ে দুই টেস্টে গ্রিভসের মোট রান ২১৫, ব্যাটিং গড় ৭১.৬৬। বল হাতে আট উইকেট, বোলিং গড় মাত্র ১০.২৫। ফলে তাঁর মাসটিকে কেবল ব্যাটিং কিংবা বোলিং দিয়ে বিচার করার সুযোগ নেই। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের ভারেই তিনি তামিম ও ব্রুকের সঙ্গে সেরার লড়াইয়ে ঢুকে পড়েছেন।
তৃতীয় প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যারি ব্রুক অবশ্য নিজের শক্তিটা দেখিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন জায়গায়। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে তার ব্যাট খুব একটা হাসেনি-তিন ম্যাচে করেছেন ৩১ রান। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে সেই ব্রুককেই দেখা গেছে বিধ্বংসী চেহারায়।
পাঁচ ম্যাচে ২২৯ রান করেছেন ইংল্যান্ডের এই ব্যাটার। গড় ১১৪.৫০ আর স্ট্রাইক রেট ২১৪.০১। টি-টোয়েন্টিতে এতটা আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সঙ্গে এমন উচ্চ গড়ই তাকে আলাদা করে দিয়েছে। সিরিজসেরার পুরস্কারও উঠেছে তাঁর হাতে।
তাই আইসিসির জুলাই মাসের সেরার লড়াইয়ে তিনজনের তিনটি আলাদা শক্তি সামনে এসেছে। তামিমের অস্ত্র ধারাবাহিকতা, গ্রিভসের শক্তি অলরাউন্ড সামর্থ্য, আর ব্রুকের বড় পরিচয় বিধ্বংসী ব্যাটিং। সংখ্যার হিসাবেও তিনজনই নিজেদের জায়গায় উজ্জ্বল। এখন প্রশ্ন, এই তিন ভিন্ন গল্পের মধ্যে আইসিসির ভোটারদের কাছে কোন গল্পটি সবচেয়ে বেশি আবেদন তৈরি করে।
নারী বিভাগেও কম জমজমাট নয় জুলাইয়ের লড়াই। ইংল্যান্ডের ন্যাট সিভার-ব্রান্ট, শ্রীলঙ্কার হার্শিতা সামারাবিক্রমা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের হ্যালি ম্যাথিউস জায়গা করে নিয়েছেন সংক্ষিপ্ত তালিকায়।
সিভার-ব্রান্ট ইনজুরির শঙ্কা পেছনে ফেলে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ইংল্যান্ডকে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছেন। হার্শিতার ব্যাটে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ভিত শক্ত হয়েছে। আর হ্যালি ম্যাথিউস আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩-০ ব্যবধানের সিরিজ জয়ে অলরাউন্ড নৈপুণ্যের পাশাপাশি খেলেছেন ক্যারিয়ারসেরা ১৫৯ রানের ইনিংস।



