জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটার লিটন দাস ও শেখ মেহেদি হাসানের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শৃঙ্খলা কমিটির কাছে ব্যাখ্যা দেওয়ার পর দুজনের বিরুদ্ধেই আর্থিক জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে। বোর্ড সূত্রের দাবি, শেখ মেহেদির জরিমানার পরিমাণ লিটনের তুলনায় বেশি হতে পারে।
দুই ক্রিকেটারকে ভিন্ন দুই কারণে শৃঙ্খলা কমিটির মুখোমুখি হতে হয়েছে। শেখ মেহেদি সম্প্রতি জাতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়া নিয়ে প্রকাশ্যে টিম ম্যানেজমেন্টের সমালোচনা করেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ম্যাচের প্রয়োজন বা দলীয় কম্বিনেশনের কারণে তাকে প্রায়ই একাদশের বাইরে রাখা হয়। নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে আরও ভালো পারফর্ম করতে পারতেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিসিবি সেই মন্তব্যকে আচরণবিধির পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করেছে।
অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বোর্ডের অনুমতি ছাড়াই বিদেশ সফরে যাওয়ার। জিম্বাবুয়ে সফরে চোট পেয়ে দেশে ফেরার পর তিনি বিসিবিকে না জানিয়ে চীনে যান। অথচ কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে বোর্ডের অনুমতি ছাড়া দেশের বাইরে ভ্রমণ না করার বিধান রয়েছে। পরে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে শৃঙ্খলা কমিটির কাছে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি এবং লিখিত জবাবও জমা দেন।
বিসিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই ক্রিকেটারের ব্যাখ্যা শোনার পর আর্থিক জরিমানার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে শাস্তির পরিমাণ এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না, কারণ বিষয়টি বোর্ডের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার অংশ। আরেক বিসিবি পরিচালকও নিশ্চিত করেছেন, লিটনের তুলনায় শেখ মেহেদির জরিমানার অঙ্ক বেশি হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এটি লিটন দাস ও শেখ মেহেদি-দুজনেরই ক্যারিয়ারে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে প্রথম শাস্তির ঘটনা। বিসিবির চূড়ান্ত অনুমোদনের পর তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানার সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।










Discussion about this post