শেষ পর্যন্ত অন্তত একটি জয়। সফরের শুরু থেকে যে দলটি একের পর এক ধাক্কা খেয়েছে, সেই বাংলাদেশই শেষ ম্যাচে দেখাল সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারা। টেস্টের হতাশা, টানা দুই ওয়ানডের পরাজয় আর হোয়াইটওয়াশের শঙ্কা-সবকিছুর জবাব দিল দাপুটে ক্রিকেটে। হারারের স্পোর্টস ক্লাবে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সিরিজের শেষ ম্যাচ জিতে নিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হারলেও অন্তত সম্মান রক্ষা করেই দেশে ফেরার পথ তৈরি করল টাইগাররা।
বাংলাদেশের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেন বোলাররা। টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর নতুন বল হাতে শুরু থেকেই জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংকে চাপে রাখেন শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ। প্রথমে বেন কারান, এরপর ব্রায়ান বেনেট এবং ক্রেইগ আরভিনকে ফিরিয়ে মাত্র ২৭ রানেই স্বাগতিকদের তিন উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ।
শুরুর সেই ধাক্কা সামলে জিম্বাবুয়েকে ম্যাচে ফেরানোর দায়িত্ব নেন ওয়েসলি মাধেভেরে। ইনোসেন্ট কাইয়াকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি। কাইয়া ধীরগতিতে খেললেও মাধেভেরে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। ফিফটি তুলে নেওয়ার পর আরও সাবলীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বোলারদের চাপে ফেলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
সিকান্দার রাজা বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও মাধেভেরে নিজের দায়িত্ব পালন করে যান। ৭৪ বলে ৭৫ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেলে তিনি জিম্বাবুয়ের লড়াইয়ের ভিত গড়ে দেন। শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্সও আগের ম্যাচের মতো ঝড় তোলেন। ৪৩ বলে ৫০ রান করে দলকে দুইশর খুব কাছে নিয়ে গেলেও ১৯৯ রানেই থামে স্বাগতিকদের ইনিংস।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন শরিফুল ইসলাম। চার উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তিনি। তাসকিন আহমেদ ও তানভীর ইসলাম নেন দুটি করে উইকেট, আর একটি উইকেট পান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
২০০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কোনো ধরনের চাপই নিতে হয়নি বাংলাদেশকে। সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান তামিম শুরু থেকেই ইতিবাচক ক্রিকেট খেলেন। আগের দুই ম্যাচের জড়তা ঝেড়ে ফেলে তারা আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর চড়াও হন। পাওয়ারপ্লেতে বিনা উইকেটে ৫৯ রান তুলে জয়ের ভিতটা গড়ে দেন দুই ওপেনার।
শুধু বড় শট নয়, দারুণ স্ট্রাইক রোটেশনেও রান তুলেছেন তারা। বাজে বলের অপেক্ষা করেছেন, সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি মেরেছেন। মাঝে কয়েকটি ক্যাচের সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। জীবন পেয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন দুই ওপেনার।
দুজনই অর্ধশতক তুলে নেওয়ার পরও থামেননি। ১৫১ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে ম্যাচকে পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যান তারা। সৌম্য ৮২ বলে ৬৯ রান করে ফিরলেও তখন জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল খুব সামান্য রান।
তিন নম্বরে নেমে নাজমুল হোসেন শান্ত দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। অন্যপ্রান্তে তানজিদ ছিলেন নিজের সেরা ছন্দে। একের পর এক বাউন্ডারি আর দৃষ্টিনন্দন ছক্কায় শতকের দিকে এগোচ্ছিলেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত ৯৪ রানে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হয়ে শতকের আক্ষেপ নিয়েই ফিরতে হয় তাকে।
তাওহিদ হৃদয় রান না করেই বিদায় নিলেও ম্যাচ শেষ করতে কোনো সমস্যা হয়নি। শান্ত ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন, সঙ্গে ছিলেন নুরুল হাসান সোহান। ৩৬ ওভারে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ, হাতে তখনও বাকি ১৪ ওভার।
এই জয় সিরিজের ট্রফি এনে দিতে পারেনি। কিন্তু আত্মবিশ্বাসে টালমাটাল একটি দলের জন্য এই জয় অনেক বড় স্বস্তির। ব্যাট হাতে সৌম্য ও তানজিদের ফর্মে ফেরা, বল হাতে শরিফুলের দুর্দান্ত স্পেল এবং পুরো দলের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে নতুন করে বিশ্বাস জাগাবে। এখন সেই বিশ্বাস নিয়েই ১৫ জুলাই থেকে বুলাওয়েতে শুরু হওয়া তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাঠে নামবে টাইগাররা।









Discussion about this post