ব্যাট হাতে লড়াই করেছিলেন। তুলে নিয়েছিলেন গুরুত্বপূর্ণ একটি ফিফটিও। কিন্তু সেই ইনিংস শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো কাজে এল না। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৩ রানের হারে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ হারিয়েছে বাংলাদেশ। আর ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে না পারার আক্ষেপই বেশি তাড়া করছে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের ইনিংসের চেয়ে দলের ব্যর্থতাকেই বড় করে দেখেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এগুলো (তামিম-হৃদয়ের দুই ফিফটি) ম্যাচ জেতানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। আমাদের শেষ পর্যন্ত ব্যাট করা দরকার ছিল। এখানেই ম্যাচটা হেরেছি।’
মাঝের সময়ে তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে ভালো একটি জুটি গড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দুজনই ফিফটি করেও ইনিংস বড় করতে না পারায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়ে যায় বলে মনে করেন তামিম, ‘আমি আর হৃদয় যখন ব্যাট করছিলাম, আমরা ভালোই এগোচ্ছিলাম। আমাদের বড় জুটি গড়া দরকার ছিল। দুজনই ফিফটি করে আউট হয়ে গেছি। অন্তত একজনের শেষ পর্যন্ত থাকা প্রয়োজন ছিল। সেখানেই ম্যাচটা হাতছাড়া হয়েছে।’
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সঙ্গে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ের পার্থক্যও তুলে ধরেছেন তামিম। বিশেষ করে ম্যাচসেরা ইনিংস খেলা বেন কারানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘কারান শেষ বল পর্যন্ত ইনিংস ক্যারি করেছে, আমরা সেটা করতে পারিনি। মূল পার্থক্য এখানেই।’
হারের দায় ব্যাটিং ইউনিটের কাঁধেই চাপিয়েছেন বাংলাদেশের এই ওপেনার। তার মতে, বোলাররা নিজেদের কাজটা মোটামুটি ঠিকভাবেই করেছেন, কিন্তু ব্যাটাররা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তামিম বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের বোলাররা ভালোই করেছে। কিন্তু আমরা ব্যাটাররা ভালো ব্যাট করতে পারিনি। প্রথম ম্যাচেও ১৪২ রান তাড়া করতে পারিনি। ব্যাটারদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’
দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ হাতছাড়া করলেও এখনও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেখছেন তিনি। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেকে শুধু নিয়মরক্ষার ম্যাচ হিসেবে নয়, টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার মঞ্চ হিসেবেই দেখছেন তামিম।
তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য সিরিজটা ভালো যায়নি। টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে আরেকটি ম্যাচ আছে। সেখানে যদি ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং-তিন বিভাগেই ভালো করতে পারি, তাহলে কিছুটা আত্মবিশ্বাস পাওয়া যাবে। সেটাই টি-টোয়েন্টি সিরিজে কাজে লাগবে।’
ম্যাচের শেষ দিকে আলো কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে এ নিয়ে বিতর্কে জড়াতে চাননি তামিম। তিনি বলেন, ‘লাইটের ব্যাপারটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে খেলতেই হয়। আম্পায়াররা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
দুই ম্যাচেই ব্যাটিং ব্যর্থতায় সিরিজ হারিয়েছে বাংলাদেশ। তাই শেষ ওয়ানডেতে জয় তুলে নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়াই এখন দলের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। আর সেই প্রত্যাশার কথাই স্পষ্টভাবে তুলে ধরলেন তানজিদ হাসান তামিম।









Discussion about this post