বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে আরেকটি মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি যোগ হলো তামিম ইকবালের নামের পাশে। ক্রিকেটের আইনপ্রণেতা হিসেবে পরিচিত মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) তাকে সম্মানসূচক আজীবন সদস্যপদ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের অবদান এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিশেষ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান পেয়েছেন দেশের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান বিসিবি সভাপতি।
তামিমের পাশাপাশি আরও চারজন বিশিষ্ট ক্রিকেটারকে একই সম্মান দিয়েছে এমসিসি। তারা হলেন নিউজিল্যান্ডের সুজি বেটস ও সোফি ডিভাইন, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার মেল জোন্স এবং ভারতের ব্যাটার চেতেশ্বর পূজারা। এমসিসি জানিয়েছে, পাঁচজনই সম্মানসূচক আজীবন সদস্যপদের প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন।
বর্তমানে ইংল্যান্ডে অবস্থানরত তামিম ইকবাল সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে যাওয়া সুজি বেটস ও সোফি ডিভাইনও এই সম্মান গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার মেল জোন্স সশরীরে সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন।
তামিমকে নিয়ে এমসিসি তাদের ঘোষণায় উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০০৮ সালে টেস্ট অভিষেকের পর তিনি পাঁচ হাজারের বেশি রান করেছেন, যা বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এছাড়া ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে সেঞ্চুরি করে অনার্স বোর্ডে নাম লেখানো অল্প কয়েকজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের একজন তিনি।
ওয়ানডে ক্রিকেটেও দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক তামিম। ২৪৩ ওয়ানডেতে তার সংগ্রহ আট হাজারের বেশি রান। ২০১১ সালে উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমানাক তাকে বর্ষসেরা ক্রিকেটার এবং বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটারের স্বীকৃতি দেয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি।
এমসিসির প্রধান নির্বাহী ও সেক্রেটারি রব লসন নতুন পাঁচ সদস্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ক্রিকেটের প্রতি তাদের আজীবনের নিবেদন, কৃতিত্ব ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এমসিসির সদস্য হিসেবে লর্ডসে তাদের স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
১৭৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্রিকেট প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে ক্লাবটির ১৮ হাজার ৩৫০ জন পূর্ণ সদস্য এবং প্রায় ৬ হাজার সহযোগী সদস্য রয়েছেন। লর্ডসের ঐতিহ্য রক্ষা, তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিকেটের উন্নয়ন এবং বিশ্বব্যাপী খেলাটির প্রসারে কাজ করে আসছে এমসিসি।










Discussion about this post