অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল আব্দুল গাফফার সাকলাইনের। পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিং সামর্থ্যের কারণে দলে জায়গা পাওয়া এই অলরাউন্ডার অবশ্য নিজের প্রথম সিরিজে খুব বেশি সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাট ও বলে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে না পারায় শেষ ম্যাচের একাদশে জায়গা হয়নি তার।
তবে সাকলাইনের বাদ পড়াকে নিয়ে কোনো নেতিবাচক বার্তা দিতে চাননি প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। বরং তরুণ এই ক্রিকেটারকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাই জানিয়েছেন তিনি। কোচের মতে, মাত্র দুটি ম্যাচ দিয়ে কোনো ক্রিকেটারের মূল্যায়ন করা ঠিক নয়।
সাকলাইন প্রসঙ্গে সিমন্স বলেন, ‘সাকলাইনকে আমরা চোখের আড়াল করিনি। এখানে পাঁচজন পেসার আছে। আমরা সবাইকে দুটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতে চেয়েছি। সাকলাইনের গত ম্যাচ ভালো যায়নি। তবে ওকে আমরা ভবিষ্যতের জন্য ভাবছি। দুটি ম্যাচ দিয়েই শেষ হবে না। ওকে নিয়মিত খেলাতে চাই। প্রতিটি সিরিজে ওকে যত বেশি সুযোগ দেওয়া যায়। তাতে সেও শিখতে থাকবে। ২০২৮ বিশ্বকাপ মাথায় রেখেই আমরা প্রস্তুত হচ্ছি।’
বাংলাদেশের বর্তমান দল গঠনের ক্ষেত্রে শুধু তাৎক্ষণিক সাফল্য নয়, ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী বেঞ্চ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সিমন্স। তাঁর মতে, বড় টুর্নামেন্ট কিংবা দীর্ঘ সিরিজে মূল ক্রিকেটারদের বিকল্প প্রস্তুত রাখা জরুরি।
তিনি বলেন, ‘প্রতি সিরিজে আমাদের লক্ষ্য সিরিজ জেতা। তবে দল গড়ে তোলার দিকেও মনোযোগ রাখতে হবে। আমরা জানি তাসকিন, মুস্তাফিজ, রানারা কী করতে পারে। সাকলাইনকে নিয়েছি কারণ আমরা এমন একজন পেসার চাচ্ছিলাম যে ব্যাট করতে পারে। সাকলাইন-সাইফউদ্দিন দুজনই তা পারে। সাকিবও ভাবনায় আছে তবে এখন চোটের জন্য বাইরে। আমরা জয়ের জন্যই খেলি। তবে মূল খেলোয়াড়রা চোটে পড়লে কী হবে? আপনাকে ব্যাকআপ তৈরি রাখতে হবে।’
শেষ ম্যাচে মুস্তাফিজুর রহমানকে একাদশের বাইরে রাখার কারণ জানতে চাওয়া হলে একই ব্যাখ্যা দেন বাংলাদেশ কোচ। তার মতে, সবাইকে সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুস্তাফিজ প্রসঙ্গে সিমন্স বলেন, ‘মুস্তাফিজও সে কারণে নেই, যে কারণে সাকলাইন নেই। আমরা সবাইকে দুটি করে ম্যাচ দিতে চেয়েছি।’
সীমিত ওভারের ক্রিকেটের ব্যস্ততা শেষ করে এখন বাংলাদেশের সামনে লাল বলের পরীক্ষা। ২৮ জুন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্ট দিয়ে শুরু হবে নতুন চ্যালেঞ্জ। টেস্ট দলের ক্রিকেটাররা ইতোমধ্যে জিম্বাবুয়ের পথে রওনা হলেও টি-টোয়েন্টি দলের সঙ্গে বাংলাদেশে রয়েছেন সিমন্স।
টেস্ট ক্রিকেট নিয়েও নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন এই কোচ। তাঁর কাছে প্রতিপক্ষ নয়, নিজেদের মান ধরে রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জিম্বাবুয়ে হোক কিংবা ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দল, টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের মান অনুযায়ী খেলতে চান তিনি।
সিমন্স বলেন, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ দুই টেস্টে আমরা যেভাবে খেলেছি, টেস্টে আমরা ঠিক এভাবেই খেলতে চাই। জিম্বাবুয়েতেও এভাবেই খেলতে চাই। আপনি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলুন বা ইংল্যান্ড তাতে কিছু যায় আসে না। টেস্ট ক্রিকেট খেলছেন আপনি। যে ফরম্যাটই খেলি, আমাদের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী খেলতে হবে।’
জিম্বাবুয়ে সফরের পর আবার অস্ট্রেলিয়ায় যেতে হবে বাংলাদেশকে। সেখানে অজিদের বিপক্ষে দুটি টেস্ট অপেক্ষা করছে টাইগারদের জন্য, যা নিঃসন্দেহে বড় পরীক্ষা। তবে এখনই অস্ট্রেলিয়া নিয়ে ভাবতে চান না সিমন্স। তাঁর পূর্ণ মনোযোগ আপাতত জিম্বাবুয়ে সিরিজে।
তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য ভালো প্রস্তুতি নিতে হবে। অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে সময় আছে। জিম্বাবুয়ে আবার ভিন্ন কন্ডিশন। এ মুহূর্তে আমরা জিম্বাবুয়ে টেস্ট নিয়েই ভাবছি।’









Discussion about this post