বিশ্ব ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের ব্যবধানটা কত বড়, হেডিংলির ম্যাচটি যেন আবারও তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শক্তির বিচারে দুই দলের অবস্থান যে ভিন্ন মেরুতে, সেটির প্রতিফলন ঘটল মাঠের প্রতিটি মুহূর্তে। বাংলাদেশের ব্যাটাররা যেখানে রান তুলতেই সংগ্রাম করেছেন, সেখানে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা জয়টাকে বানিয়ে ফেলেছেন নিছক আনুষ্ঠানিকতা।
আজ হেডিংলিতে টসে হেরে ব্যাট করতে নামার পর থেকেই বিপদের ইঙ্গিত পেতে শুরু করে বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরুতেই ফিরে যান দুই ওপেনার দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। আগের ম্যাচে নায়ক হওয়া জুয়াইরিয়াও এদিন ব্যাট হাতে ছন্দ খুঁজে পাননি। স্কোরবোর্ডে রান বাড়ার আগেই উইকেট হারানোর মিছিলে যোগ দেন শারমিন আক্তারসহ আরও কয়েকজন ব্যাটার।
দলীয় ২৭ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর বড় ধসের শঙ্কা তৈরি হয়। তখন দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও রিতু মনি। দুজন মিলে ইনিংসটাকে কিছুটা এগিয়ে নেন, তবে রান তোলার গতি ছিল খুবই ধীর। অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও আঁটসাঁট ফিল্ডিংয়ের সামনে ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগও পাচ্ছিলেন না তারা।
জ্যোতি ৪৭ বলে ২৭ রান করেন। রিতুর ব্যাট থেকে আসে ১৬ রান। তাদের এই প্রতিরোধে বাংলাদেশ অন্তত পুরো ২০ ওভার ব্যাট করতে সক্ষম হয়। কিন্তু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৭৭ রান কখনোই নিরাপদ সংগ্রহ নয়, বিশেষ করে প্রতিপক্ষ যখন অস্ট্রেলিয়ার মতো দল।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই বুঝিয়ে দেয়, ম্যাচটিকে দীর্ঘায়িত করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন ওপেনার বেথ মনি ও জর্জিয়া ভল। একমাত্র সাফল্য এনে দেন মারুফা আক্তার, যখন তিনি ১০ রান করা মনিকে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি অস্ট্রেলিয়ার হাতে।
মনির বিদায়ের পর জর্জিয়া ভল ও এলিস পেরি আর কোনো সুযোগ দেননি বাংলাদেশকে। ভল খেলেন ৪৫ রানের অপরাজিত ইনিংস, আর পেরি করেন ১৯ রান। দুজনের ব্যাটে ভর করে মাত্র ৯.৩ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি ছিল হতাশার। ব্যাটিং ইউনিটের ব্যর্থতা, পাওয়ারপ্লেতে উইকেট হারানো এবং প্রতিপক্ষকে কোনো চাপ সৃষ্টি করতে না পারা- দিনটি ভুলে যেতে চাইবে টাইগ্রেসরা। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া দেখিয়েছে কেন তারা এখনও নারী ক্রিকেটের সবচেয়ে ভয়ংকর দলগুলোর একটি।
বিশ্বকাপের লম্বা যাত্রায় একটি হার শেষ কথা নয়। তবে এই ম্যাচ বাংলাদেশের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রেখে গেল-শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে সমানে লড়তে হলে শুধু প্রতিভা নয়, প্রয়োজন আরও বেশি দৃঢ়তা, পরিকল্পনা ও কার্যকর ব্যাটিং।
এখন সব নজর ২০ জুনের দিকে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য শুধু আরেকটি গ্রুপ ম্যাচ নয়, বরং ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও।









Discussion about this post