অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার ম্যাচে শুরুটা ছিল আগের দুই ম্যাচের মতোই হতাশার। প্রথম ওভারেই উইকেট হারানো, এরপর নিয়মিত বিরতিতে টপঅর্ডারের ব্যাটারদের বিদায়-সবকিছু মিলিয়ে আবারও বড় বিপদের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। তবে সেই সংকট থেকে দলকে টেনে তোলেন তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাস ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তাদের দায়িত্বশীল ও পরিণত ব্যাটিংয়ে ভর করে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ২৭৫ রানের লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছে স্বাগতিকরা।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। একাদশে কয়েকটি পরিবর্তন এনে মাঠে নামলেও ব্যাটিংয়ের চিত্রে খুব একটা পরিবর্তন দেখা যায়নি। ইনিংসের দ্বিতীয় রান যোগ হওয়ার আগেই সাজঘরের পথ ধরেন সৌম্য সরকার। মাত্র ২ রান করে আউট হয়ে তিনি আরও একবার হতাশ করেন। এতে টানা দুই ম্যাচে প্রথম ওভারেই উইকেট হারানোর বিব্রতকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ।
সৌম্যর বিদায়ের পর ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। মেহেদী হাসান মিরাজের চোটের কারণে নেতৃত্ব পাওয়া শান্ত শুরুতে ধীরস্থির ব্যাটিং করেন। তানজিদও কয়েকটি আকর্ষণীয় শট খেলে আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দেন। দুজন মিলে ৫১ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
কিন্তু ভালো শুরুর পরও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কেউই। ম্যাট রেনশোর একটি স্কিড করা ডেলিভারিতে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে ১৯ রান করে আউট হন তানজিদ। এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি শান্তও। একই ধরনের শট খেলতে গিয়ে ২৪ রান করে ফিরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। মাত্র ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে আবারও চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা।
এমন পরিস্থিতিতে ক্রিজে জুটি বাঁধেন লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে ধারাবাহিক না হলেও দলের বিপদের মুহূর্তে বারবার দায়িত্ব নেওয়ার যে সুনাম রয়েছে লিটনের, এদিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শুরুতে সময় নিয়ে খেললেও পরে ধীরে ধীরে হাত খুলতে শুরু করেন তিনি। অন্যদিকে হৃদয়ও ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। খারাপ বল পেলেই বাউন্ডারিতে পাঠিয়েছেন, আবার প্রয়োজন হলে ধৈর্যও দেখিয়েছেন।
চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে ৯২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। এই জুটির সময়ই ইনিংসের গতি ফিরে আসে। তবে ব্যক্তিগত আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে লিটনকে। ফিফটির খুব কাছে পৌঁছে পায়ের পেশিতে টান অনুভব করেন তিনি। পরে অবসর নিয়ে মাঠ ছাড়েন ৭৩ বলে ৪৮ রান করে।
লিটনের বিদায়ের পর ইনিংসের দায়িত্ব আরও বেশি করে এসে পড়ে হৃদয়ের কাঁধে। আর সেই দায়িত্ব পালনে তাকে দারুণ সঙ্গ দেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা মোসাদ্দেক এদিনও নেমেই ইতিবাচক ক্রিকেট খেলেন। শুরু থেকেই রান তোলার গতি ধরে রাখেন তিনি।
দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে ৯৩ রানের দারুণ জুটি। এই জুটিই মূলত বাংলাদেশের ইনিংসকে মাঝারি সংগ্রহ থেকে লড়াকু সংগ্রহে পরিণত করে। ইনিংসের এক পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজের প্রথম ফিফটি পূর্ণ করেন তাওহীদ হৃদয়। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম অর্ধশতকটি আসে পরিণত ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে। তবে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ৮৩ রানে থামতে হয় তাকে। রান তোলার গতি বাড়াতে গিয়ে বড় শট খেলতে চেয়ে উইকেট হারান এই ডানহাতি ব্যাটার।
হৃদয়ের বিদায়ের পরও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান মোসাদ্দেক। মাত্র ৪৩ বলে ফিফটি তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার পঞ্চম অর্ধশতক এবং চলমান সিরিজে দ্বিতীয় ফিফটি। মিডল অর্ডারে নেমে তার দ্রুত রান তোলার ক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্কোরকে ২৭০-এর ওপরে নিয়ে যেতে বড় ভূমিকা রাখে।
তবে শেষদিকে প্রত্যাশিত অবদান রাখতে পারেননি শেখ মেহেদী হাসান। প্রায় আড়াই বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরে ব্যাট হাতে মাত্র ৩ রান করেন তিনি। এরপরও শেষের ওভারগুলোতে কিছু কার্যকর রান যোগ করে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ২৭৪ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ।
একসময় ৬১ রানে ৩ উইকেট হারানো দলের জন্য এই স্কোর নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক। যদিও শুরুটা ছিল হতাশাজনক, তবে মিডল অর্ডারের দৃঢ়তা বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে গেছে। এখন ম্যাচে ফিরতে এবং সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করতে বোলারদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে ২৭৪ রানের নিচে আটকে রাখা। হৃদয় ও মোসাদ্দেক ব্যাট হাতে কাজটা করে দিয়েছেন, এবার দায়িত্ব বোলারদের।









Discussion about this post