অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়ে এবার সফরকারীদের হোয়াইটওয়াশ করার মিশনে নেমেছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে আজ টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিকরা। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১২.৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫৮ রান।
প্রথম দুই ম্যাচে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। ফলে শেষ ম্যাচটি এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতার নয়, বরং অস্ট্রেলিয়াকে ধবলধোলাই করার সুযোগও এনে দিয়েছে টাইগারদের সামনে। কয়েক মাস আগেও ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে যে প্রশ্ন ছিল, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক সাফল্যে সেই সংশয় অনেকটাই কেটে গেছে। টানা চার সিরিজ জয়ের পথে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারানো বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।
শেষ ম্যাচে দলে এসেছে দুটি পরিবর্তন। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে চোট পাওয়া অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্রামে রাখা হয়েছে পেসার নাহিদ রানাকে। তাদের জায়গায় একাদশে সুযোগ পেয়েছেন শেখ মেহেদী হাসান ও শরিফুল ইসলাম। মিরাজের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছেন সহ-অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
সিরিজজুড়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বোলিং বিভাগ। পেসার ও স্পিনারদের সম্মিলিত নৈপুণ্যে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে বারবার চাপে ফেলেছে স্বাগতিকরা। ব্যাটিং বিভাগও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। তবে বড় সংগ্রহ গড়ার ক্ষেত্রে এখনও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। প্রথম ম্যাচে শক্ত ভিত্তি গড়েও ৩০০ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেনি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচেও ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে হারাতে হয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
মিরপুরের উইকেটও আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যাটিংবান্ধব। ফলে বড় রান করার সুযোগ রয়েছে ব্যাটারদের সামনে। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বড় ইনিংস খেলা এবং দ্রুত রান তোলার অভ্যাস গড়ে তোলাও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের একাদশে রয়েছেন সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও শেখ মেহেদী হাসান। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন জশ ইংলিস। তার সঙ্গে একাদশে রয়েছেন জেভিয়ার বার্টলেট, অ্যালেক্স ক্যারি, কুপার কনোলি, বেন ডোয়ারশুইস, ক্যামেরন গ্রিন, মারনাস লাবুশেন, ম্যাথু রেনশ, লিয়াম স্কট, অলি পিকে ও অ্যাডাম জাম্পা।
সিরিজ জয় ইতোমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে। এখন বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য একটাই—শেষ ম্যাচেও জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করা এবং আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে।
বাংলাদেশ একাদশ
সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও শেখ মেহেদী হাসান।
অস্ট্রেলিয়া একাদশ
জশ ইংলিস (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, অ্যালেক্স ক্যারি, কুপার কনোলি, বেন ডোয়ারশুইস, ক্যামেরন গ্রিন, মারনাস লাবুশেন, ম্যাথু রেনশ, লিয়াম স্কট, অলি পিকে ও অ্যাডাম জাম্পা।










Discussion about this post