মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যেন একসঙ্গে ধরা দিল দুই ছবি। একদিকে বাংলাদেশের পেসারদের তোপে বিপর্যস্ত অস্ট্রেলিয়া, অন্যদিকে বৃষ্টির কারণে ম্যাচে নতুন সমীকরণ। দিনের শেষ পর্যন্ত ম্যাচ পুরোপুরি শেষ না হলেও সিরিজ জয়ের পথে বড় সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশ। আজ ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে স্বাগতিকদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ৪১ ওভারে ১৯২ রান।
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে এমন শুরু খুব কমই দেখা গেছে। বিশ্ব ক্রিকেটে দীর্ঘদিন আধিপত্য বিস্তার করা দলটি মিরপুরে নেমে প্রথম থেকেই বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে। ইনিংসের শুরুতেই তাসকিন আহমেদের আঘাতে ফেরেন ম্যাট শর্ট। পরের ওভারে মুস্তাফিজুর রহমান তুলে নেন কুপার কনোলি ও ম্যাথু রেনশকে। ফলে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই তিন উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
ওয়ানডে ইতিহাসে এটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য এক বিরল ও বিব্রতকর ঘটনা। এর আগে ১০২৪ ম্যাচের ওয়ানডে ইতিহাসে মাত্র দুইবার তাদের দুই ওপেনার শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। কিন্তু এবার শুধু দুই ওপেনার নয়, রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন প্রথম তিন ব্যাটার। বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ন্ত্রিত ও আগ্রাসী বোলিংয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা।
প্রথম ধাক্কার পর জশ ইংলিস কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক চারটি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ৩৪ রান করেন। তবে তিনিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। বাংলাদেশের পেস আক্রমণের পাশাপাশি স্পিন বিভাগেও কার্যকর ভূমিকা রাখেন তানভীর ইসলাম। ইংলিসকে ফেরানোর পর ক্যামেরন গ্রিনকেও আউট করেন তিনি। আগের ম্যাচে দলের হয়ে লড়াই করা গ্রিন এবার থামেন ২৫ রানে।
দলীয় ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে যখন শতরান ছোঁয়াই অনিশ্চিত হয়ে উঠেছিল, তখন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে লড়াই শুরু করেন মার্নাস লাবুশেন ও জেভিয়ার বার্টলেট। সপ্তম উইকেটে ১০৩ রানের জুটি গড়ে তারা দলকে ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে তোলেন। বিশেষ করে বার্টলেটের ব্যাটিং ছিল চোখে পড়ার মতো। মূলত বোলার হিসেবে পরিচিত এই ক্রিকেটার ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে অর্ধশতক তুলে নেন। ৫২ রানের ইনিংসটি ছিল তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
তবে অস্ট্রেলিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন বেশিক্ষণ টেকেনি। দলীয় ১৮৪ রানে বার্টলেটকে বোল্ড করে গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভাঙেন তাসকিন আহমেদ। একই ওভারে অ্যাডাম জাম্পাকেও ফিরিয়ে নিজের তৃতীয় উইকেট তুলে নেন এই পেসার। তাসকিনের আগুনঝরা স্পেলের সঙ্গে মুস্তাফিজুর রহমানের তিন উইকেট এবং তানভীর ইসলামের দুই উইকেটে আবারও চাপে পড়ে সফরকারীরা।
এর মধ্যেই নামে বৃষ্টি। বেলা ২টা ৩৮ মিনিটে শুরু হওয়া বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকে। পরে ওভার কমিয়ে ম্যাচকে ৪১ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। বৃষ্টির আগে ৪২ ওভারে ১৮৮ রান তুলেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে ইনিংস আর এগোয়নি। ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের জন্য নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯২ রান।
প্রথম ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ আজ জয় পেলেই এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত করবে ওয়ানডে সিরিজ। মিরপুরে তাই এখন সব নজর বাংলাদেশের ব্যাটারদের দিকে। পেসাররা কাজটা অনেকটাই করে দিয়েছেন, এবার সিরিজ জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার দায়িত্ব ব্যাটারদের।










Discussion about this post