বিসিবির নির্বাচন এবার শুধু ভোটের লড়াই নয়, হয়ে উঠেছে পরিচয়েরও পরীক্ষা। ক্রিকেটের বোর্ড গঠনের এই প্রক্রিয়ায় মাঠের চেয়ে বেশি আলোচনা এখন মাঠের বাইরের বিষয় নিয়ে-কারও রাজনৈতিক পরিচয়, কারও ক্ষমতার ঘনিষ্ঠতা, আবার কারও প্রভাব নিয়ে গুঞ্জন।
এমন এক আবহে সামনে এসেছেন তামিম ইকবাল। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক, বর্তমান অ্যাডহক কমিটির প্রধান এবং সম্ভাব্য পরবর্তী বিসিবি সভাপতি-সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুখও তিনি।
গত দুই মাস ধরে তার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে বিসিবির ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। এখন নির্বাচন শেষে বোর্ড গঠন হলে সেই চেয়ারেই স্থায়ীভাবে বসতে পারেন তামিম। তবে ভোটের আগেই নতুন বোর্ডকে ঘিরে উঠেছে ‘রাজনৈতিক বোর্ড’ তকমার আলোচনা।
কারণ, নির্বাচনে অংশ নেওয়া অনেক প্রার্থীর রয়েছে সরাসরি রাজনৈতিক পরিচয় বা ক্ষমতাসীন মহলের সঙ্গে সম্পর্ক। যদিও বিসিবি একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী ক্রিকেট বোর্ডে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। কিন্তু সমালোচকদের মতে, বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
এই বিতর্কের মাঝেই তামিম নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। রাজনৈতিক বোর্ডের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “বোর্ডটি রাজনৈতিক কি না- এই প্রশ্নের জবাবে আমি বলব, এটি একটি নির্বাচন। আপনার যদি দেওয়ার মতো কিছু থাকে, তাহলে আপনি সবসময় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।”
তামিমের বক্তব্যে বোঝানোর চেষ্টা ছিল, নির্বাচন সবার জন্যই উন্মুক্ত ছিল এবং অংশগ্রহণের সুযোগ কারও জন্য বন্ধ ছিল না। অর্থাৎ, তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রতিযোগিতামূলক ও স্বাভাবিক হিসেবেই তুলে ধরতে চেয়েছেন।
তবে নির্বাচন নিয়ে আরেকটি বড় অভিযোগ ছিল প্রভাব খাটানোর সম্ভাবনা। বিশেষ করে অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে তামিমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ছিল কিছু মহলে। কিন্তু তিনি দাবি করেছেন, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন।
তামিম বলেন, “এই নির্বাচনে আমি একজন মানুষকেও ফোন করিনি। কাউকে অনুরোধও করিনি। আর যদি তা করতাম, তাহলে আজকের পৃথিবীতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যেত। কারণ এটি আমার দায়িত্ব নয়। আমি নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হাতে তুলে দেওয়ার পর থেকেই তারা বিষয়টি দেখভাল করছে।”
তার এই বক্তব্যে একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতার কথা উঠে এসেছে, অন্যদিকে নিজের নিরপেক্ষ অবস্থানও তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি। তবে সমালোচনা পুরোপুরি থেমে নেই। কারণ এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুলনামূলক কম এবং অনেক পদে ফল আগেই অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেছে।









Discussion about this post