নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতির শেষ ধাপে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে স্কটল্যান্ডে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেবে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। আগামী ৩০ মে শুরু হওয়া এই সিরিজে স্বাগতিক স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের এটিকে বড় সুযোগ হিসেবেই দেখছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।
রোববার মিরপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জ্যোতি বলেন, ‘আমরা যেহেতু ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার জন্য স্কটল্যান্ডে যাব। বিশ্বকাপের আগে এটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটা সুযোগ যে আমাদের দলটা আসলে কতটুকু ভালো ক্রিকেট খেলবে। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে যদি আমরা সম্মিলিতভাবে ক্রিকেটটা খেলতে পারি, অবশ্যই আগের অনেক বিশ্বকাপের চেয়ে ভালো ফলাফল পাবো।’
দলের পেস আক্রমণ নিয়েও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ অধিনায়ক। বিশেষ করে তরুণ পেসার মারুফা আক্তার ও তৃষ্ণার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট তিনি। জ্যোতি বলেন, ‘মারুফার কথা যদি বলি সে ধারাবাহিকভাবে দলের জন্য অনেক ভালো করে আসছে, পারফর্ম করছে এবং বলব যে তৃষ্ণাও কিন্তু যে নিজেকে প্রমাণ করেছে। গত সিরিজে ওর পারফরম্যান্স দেখেছি এবং কোয়ালিফাইয়ে দুয়েকটা ম্যাচে যে সুযোগ পেয়েছে ওখানে সে ভালো করেছে।’
বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত দল নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অধিনায়ক। তার মতে, ব্যাটিং ও বোলিং-দুই বিভাগেই ভারসাম্য রয়েছে স্কোয়াডে। জ্যোতি বলেন, ‘সবকিছু বিবেচনায় রেখে আসলে দল নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচকরা ওভাবেই চিন্তা করে দল দিয়েছেন। আমি যেটা মনে করি যে যথেষ্ট ব্যাটার আছে দলে, বোলিং আক্রমণও অনেক ভালো আছে। এখন হচ্ছে আসলে আমাদের ভালো খেলার পালা।’
এবারের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বসছে ইংল্যান্ডে। এই টুর্নামেন্ট খেলতে রোববার রাতেই দেশ ছাড়ছে বাংলাদেশ নারী দলের প্রথম বহর। এবারের বিশ্বকাপে টাইগ্রেসদের জন্য অপেক্ষা করছে বিশেষ এক অভিজ্ঞতাও। ইতিহাসখ্যাত লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে গ্রুপপর্বের একটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। সেই সুযোগ নিয়ে রোমাঞ্চ লুকাননি জ্যোতি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘লর্ডসে খেলার সুযোগ পেয়ে দল রোমাঞ্চিত। ছোটবেলা থেকে যখন আমরা ক্রিকেট খেলা শুরু করেছি বা দেখছি, কিছু বিখ্যাত মাঠ আছে বা ঐতিহাসিক স্থান আছে যেখানে আসলে খেলোয়াড়রা গিয়ে খেলতে চায়। আমাদেরও একই অনুভূতি, আমরাও খুশি যে আমাদের লর্ডসে খেলার একটা সুযোগ এসেছে।’
বিশ্বকাপে ভালো কিছুর প্রত্যাশাও স্পষ্ট বাংলাদেশের অধিনায়কের কণ্ঠে। গ্রুপপর্বে অন্তত তিনটি ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে চায় দল। জ্যোতি বলেন, ‘ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে আমাদের ম্যাচ জেতার অভিজ্ঞতা আছে। আমি মনে করি এবার আমরা যে গ্রুপে আছি, আমাদের সম্ভাব্য সবচেয়ে ভালো সুযোগ আছে যেন আমরা অন্তত তিনটা ম্যাচ জিততে পারি।’
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের বদলে যাওয়া মানসিকতার কথাও তুলে ধরেছেন অধিনায়ক। তার মতে, এখন আর দল নির্ভর করে না কেবল কয়েকজন ক্রিকেটারের ওপর। বরং দলে তৈরি হয়েছে একাধিক ম্যাচজয়ী পারফর্মার। জ্যোতির ভাষায়, ‘দলের ভেতরে এখন অনেক পারফর্মার যোগ হয়েছে, যেটা আগে ছিল না। আগে দুয়েকটা প্লেয়ারের ওপর অনেক নির্ভরশীল ছিল দল, কিন্তু এখন কিছু প্লেয়ার আছে যারা ভালো করছে। প্লেয়ারদের ভেতরে ক্ষুধাটা আছে যে আমরা আসলে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে ভালো খেলতে চাই না শুধু, আমরা ম্যাচ জিততে চাই।’









Discussion about this post