ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) আগের ম্যাচেই রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছিল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। শেষ মুহূর্তের উত্তেজনায় ঢাকা লিওপার্ডসকে মাত্র ২ রানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত দলটি ঈদের আগে নিজেদের শেষ ম্যাচেও সেই ছন্দ ধরে রাখল। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় শেখ মেহেদী হাসানের দল।
আজ টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় রূপগঞ্জ। আর সেই সিদ্ধান্ত যে একেবারে সঠিক ছিল, সেটি প্রমাণ করে দেন তাদের বোলাররা। শুরু থেকেই গাজী গ্রুপের ব্যাটিং লাইনআপের ওপর চাপ সৃষ্টি করে লিজেন্ডসের বোলাররা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা গাজী গ্রুপ শেষ পর্যন্ত ৪৭.৪ ওভারে অলআউট হয়ে সংগ্রহ করে মাত্র ২১০ রান।
ইনিংসের শুরুতেই আঘাত হানেন আব্দুল হালিম। দলীয় ১০ রানের মধ্যেই ফিরিয়ে দেন ওপেনার মুনিম শাহরিয়ারকে। মাত্র ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটার। এরপর আরেক ওপেনার শোভন মোড়লও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। গাজী গ্রুপের ব্যাটিং বিপর্যয় আরও বাড়িয়ে দেন হালিম, যখন তিনি ইমন আলিকেও মাত্র ১ রানে ফিরিয়ে দেন। শুরুতেই তিন গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে বড় চাপে পড়ে যায় গাজী গ্রুপ।
এই ধাক্কার পর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন প্রীতম কুমার। আগ্রাসী ভঙ্গিতে রান তুলতে থাকলেও তাকে বড় ইনিংস খেলতে দেননি ইরফান শুক্কুর। ৩০ বলে ৩১ রান করে থামেন তিনি। এরপর ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব তুলে নেন সাব্বির হোসেন শিকদার।
এক প্রান্ত আগলে রেখে ধৈর্য আর নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে গাজী গ্রুপকে টেনে তোলেন সাব্বির। সময়ের সঙ্গে তিনি এগোচ্ছিলেন শতকের দিকেও। কিন্তু ইনিংসটি বড় করতে পারেননি। ১০৪ বলে ১০টি চারের সাহায্যে ৭৯ রান করার পর সালাউদ্দিন শাকিলের শিকার হন এই ব্যাটার। সাব্বিরের বিদায়ের পর বড় সংগ্রহের সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায় গাজী গ্রুপের।
মধ্যক্রমে রাহিম আহমেদ ৫২ বলে ৩১ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তার ইনিংসের সৌজন্যেই আড়াইশোর অনেক নিচে থেমে যাওয়া দলটি অন্তত ২০০ পার করতে সক্ষম হয়। তবে পুরো ইনিংসেই ছিল রূপগঞ্জ বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আধিপত্য।
বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন আব্দুল হালিম। ৪১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে শুরুতেই ম্যাচের ভিত গড়ে দেন তিনি। সালাউদ্দিন শাকিলও ছিলেন সমান কার্যকর। ৩৬ রানে ৩ উইকেট তুলে গাজী গ্রুপের শেষ প্রতিরোধ ভেঙে দেন এই পেসার। এছাড়া অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান ও অভিজ্ঞ নাসুম আহমেদ নেন একটি করে উইকেট।
২১১ রানের লক্ষ্য খুব বড় না হওয়ায় ম্যাচে এখন পরিষ্কারভাবেই এগিয়ে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। আগের ম্যাচের নাটকীয় জয়ের পর এবার দাপুটে পারফরম্যান্সে ঈদের আগে আরেকটি জয় তুলে নেওয়ার মঞ্চ তৈরি করে ফেলেছে তারা।










Discussion about this post