বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন সামনে রেখে এগিয়ে চলেছে কার্যক্রম। আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিসিবি নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত তিন ক্যাটাগরিতে মোট ৩৩টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান।
দিনভর মনোনয়ন জমা নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন তিনি। তাহেরুল হক চৌহান বলেন, ‘আজ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন ছিল। আমরা মনোনয়ন ফর্ম জমা নিয়েছি সারা দিন ধরে। সকাল দশটায় আমরা এটা চালু করি এবং বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত এটা চলে।’
বিসিবি নির্বাচনে এবার তিনটি ক্যাটাগরিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। কোন ক্যাটাগরিতে কতটি মনোনয়ন জমা পড়েছে, সেই পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন রিটার্নিং অফিসার। তিনি বলেন, ‘তিনটা ক্যাটাগরিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এক নম্বর ক্যাটাগরি যেটা ক্যাটাগরি ওয়ান, সেখানে আমরা ১৪টি নমিনেশন ফর্ম গ্রহণ করেছি। আর ক্যাটাগরি (দুইতে) ১৮টি ফর্ম সাবমিট হয়েছে। আর ক্যাটাগরি থ্রিতে একটি।’
এখন নজর যাচাই-বাছাই পর্বে। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৩ মে মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। সে প্রসঙ্গে তাহেরুল হক চৌহান বলেন, ‘আজকে এটা গ্রহণ করলাম। এটা যাচাই-বাছাই হবে এবং এখানে তালিকাটাও প্রকাশ করা হবে তেইশ (২৩ মে) তারিখে। আমি আশা করছি যে আগামীকাল আমরা এটা যাচাই-বাছাই করব।’
শুধু আনুষ্ঠানিক যাচাই নয়, পুরো প্রক্রিয়াই হবে গঠনতন্ত্র ও নির্বাচনী নীতিমালার আলোকে—এ কথাও স্পষ্ট করেছেন তিনি। তাহেরুল হক বলেন, ‘বিসিবির গঠনতন্ত্র ২০২৪ সালে সংশোধন করা হয়েছে। আর নির্বাচন পরিচালনার জন্য করা নীতিমালা, এই দুইটি বিষয় মাথায় রেখেই আমরা যাচাই-বাছাই করব।’
মনোনয়ন জমাদানকারীদের তালিকায়ও রয়েছে পরিচিত অনেক মুখ। ঢাকা বিভাগ থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সাঈদ বিন জামান, এসএম আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ ও জসিমউদ্দিন খান খোকন। চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে রয়েছেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, মঈনুদ্দিন চৌধুরী ও শরীফুল ইসলাম। খুলনা বিভাগ থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন চৌধুরী শফিকুল আলম, শান্তনু ইসলাম ও মোহাম্মদ আব্দুস সালাম। এছাড়া বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ থেকেও একাধিক প্রার্থী ফর্ম জমা দিয়েছেন।
ক্যাটাগরি-৩ এ একমাত্র মনোনয়ন জমা দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। তবে এই ক্যাটাগরি নিয়েই তৈরি হয়েছিল একটি আলোচিত পরিস্থিতি। শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ ফর্ম তুললেও শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচন করছেন না। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে রিটার্নিং অফিসার বলেন, ‘তিনি ফর্ম তুলেছিলেন। তবে গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা করে আমরা দেখেছি, তিনি ক্যাটাগরি-৩ এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য নন। তিনি খেলোয়াড় কল্যাণ সংস্থার একজন প্রতিনিধি। এ কারণে কাউন্সিলর হিসেবে থাকতে পারলেও পরিচালক পদে নির্বাচন করার যোগ্যতা তার নেই। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি এই ক্যাটাগরিতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।’
পরে পুরো বিষয়টিকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবেই ব্যাখ্যা করেন তাহেরুল হক চৌহান। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, এখানে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তিনিও শুরুতে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেননি। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি নিজেই ফর্ম ফেরত দিয়েছেন।’









Discussion about this post