সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নিয়েছে বাংলাদেশ। সকালে তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজের আঘাতে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ নড়বড়ে হয়ে পড়ে। পরে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে সফরকারীদের চাপে রাখে টাইগার বোলাররা। যদিও ছোট ছোট ইনিংসে ভর করে পাকিস্তান দুইশ রানের গণ্ডি পেরিয়েছে, তবুও চা বিরতিতে তারা এখনও বাংলাদেশের চেয়ে ৭২ রান পিছিয়ে।
প্রথম দিনের খেলা শেষে বিনা উইকেটে ২১ রান নিয়ে আজ দ্বিতীয় দিন শুরু করেছিল পাকিস্তান। তবে দিনের শুরুতেই আক্রমণ শানান তাসকিন আহমেদ। অভিজ্ঞ এই পেসারের গতিময় বোলিংয়ে দ্রুত ফেরেন দুই ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজল ও আজান আওয়াইস। শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান।
এরপর ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন অধিনায়ক শান মাসুদ ও বাবর আজম। দুজন মিলে ৩৮ রানের জুটি গড়েন। তবে ২১ রান করা শানকে ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পরে সৌদ শাকিলও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মিরাজের ঘূর্ণিতে সুইপ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি।
একপ্রান্তে অবশ্য দৃঢ়ভাবে লড়াই চালিয়ে যান বাবর আজম। চোট কাটিয়ে দলে ফিরে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন পাকিস্তানের এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ফাঁকা জায়গায় শট খেলতে থাকেন, একই সঙ্গে স্কোরবোর্ডও সচল রাখেন। তবে অন্যপ্রান্তে সঙ্গীর অভাবে বড় জুটি গড়তে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ৮৪ বলে ৬৮ রান করে নাহিদ রানার বলে বিদায় নেন বাবর। তাঁর ইনিংসে ছিল দারুণ কিছু বাউন্ডারির ঝলক।
চা বিরতিতে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৫ ওভারে ৮ উইকেটে ২০৬ রান। ফলে এখনও প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ২৭৮ রানের চেয়ে ৭২ রান পিছিয়ে রয়েছে সফরকারীরা।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বড় বিপদে পড়েও লিটন দাসের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। ১২৬ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে টেনে তোলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। লেজের ব্যাটারদের সঙ্গে ছোট ছোট জুটি গড়ে তিনি একাই লড়াই চালিয়ে যান। ১৫৯ বলে ১২৬ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন লিটন। শরিফুল ইসলাম ১২ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৭৭ ওভারে ২৭৮ রানে।
পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে খুররম শাহজাদ চারটি উইকেট নেন। এছাড়া মোহাম্মদ আব্বাস শিকার করেন তিনটি উইকেট। হাসান আলী নেন দুটি এবং সাজিদ খান একটি উইকেট।









Discussion about this post