মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে জয়ের পর আত্মবিশ্বাসে ভরপুর বাংলাদেশ দল। মাঠের সেই সাফল্যের প্রতিফলন মিলেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসির সর্বশেষ টেস্ট র্যাঙ্কিংয়েও। ব্যাটার ও বোলার-দুই বিভাগেই উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের একাধিক ক্রিকেটারের। সবচেয়ে বড় উত্থান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর।
পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ইনিংসে ১০১ ও ৮৭ রানের দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে দলের জয়ে নেতৃত্ব দেন শান্ত। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা এই বাঁহাতি ব্যাটার র্যাঙ্কিংয়ে এক ধাক্কায় ১৬ ধাপ এগিয়ে এখন ২৩ নম্বরে। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো তিনি পেয়েছেন ৬৪৯ রেটিং পয়েন্ট। একই রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তার পাশে আছেন পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার বাবর আজম।
শান্তর মতো উজ্জ্বল ছিলেন মুমিনুল হকও। দুই ইনিংসেই অর্ধশতক হাঁকিয়ে তিনি দলের ব্যাটিংয়ে বড় অবদান রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৯১ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রান করা মুমিনুল ১২ ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ৩৫ নম্বরে। শান্তর সঙ্গে দুই ইনিংসেই শতরানের জুটি গড়ে পাকিস্তানের বোলারদের চাপে রাখেন তিনি।
অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমও র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছেন। প্রথম ইনিংসে ৭১ রানের ইনিংস খেলার পর তিনি দুই ধাপ এগিয়ে এখন ২৬ নম্বরে অবস্থান করছেন।
বোলিং বিভাগেও এসেছে সুখবর। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া নাহিদ রানা পাঁচ ধাপ এগিয়ে ৬৪ নম্বরে উঠে এসেছেন। আর বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম তিন ধাপ এগিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন ১৩ নম্বরে। পুরো ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। মেহেদী হাসান মিরাজও ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। মিরপুর টেস্টে ৬ উইকেট নেওয়ার পরও তিনি আগের মতোই ২৭ নম্বরে আছেন।
মিরপুরের জয় শুধু ব্যক্তিগত র্যাঙ্কিংয়ে নয়, দলীয় অবস্থানেও প্রভাব ফেলেছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় দুই ধাপ এগিয়ে এখন ছয়ে বাংলাদেশ। দলের জয়ের হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৪৪ শতাংশে। অন্যদিকে পিছিয়ে পড়েছে পাকিস্তান। তারা নেমে গেছে সাত নম্বরে।
মিরপুরে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া বাংলাদেশ এখন তাকিয়ে সিলেটের দিকে। আগামী ১৬ মে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। সেখানে জয়ের ধারা ধরে রেখে আরও এগিয়ে যেতে চায় শান্তর দল।









Discussion about this post