ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বড় জয় তুলে নিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। ইউল্যাব ক্রিকেট মাঠে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে ১৯৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে দলটি। ব্যাট হাতে আজিজুল হাকিম তামিম, শাহাদাত হোসেন দিপু ও শামীম হোসেনের ঝোড়ো ইনিংসের পর বল হাতে আলিসের বিধ্বংসী স্পেলেই ম্যাচ একপেশে হয়ে যায়।
আজ টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিল প্রাইম ব্যাংক। উদ্বোধনী জুটিতে ১৪৬ রান যোগ করেন আজিজুল হাকিম তামিম ও শাহাদাত হোসেন দিপু। ৮৮ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৭১ রান করে দিপু আউট হলেও অন্যপ্রান্তে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান তামিম। তিনি ১০৭ বলে ৭৮ রান করেন, যেখানে ছিল ৩টি চার ও ৩টি ছক্কা।
মাঝের দিকে শামীম হোসেন পাটোয়ারী ৪৫ বলে অপরাজিত ৫১ রানের ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ২ চার ও ৩ ছক্কা। শেষ দিকে আবু হায়দার রনির ১৭ বলে অপরাজিত ৪২ রানের ঝড়ো ইনিংসে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩০৩ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় প্রাইম ব্যাংক। আকবর আলীও ১৩ বলে ২৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। গাজী গ্রুপের হয়ে মাহফিজুল ইসলাম নেন ৪ উইকেট।
৩০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো দলটির হয়ে কেবল তিনজন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছান। সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন সাব্বির হোসেন। তবে ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম।
২৩তম ওভারে টানা দুই বলে মোহাম্মদ সালমান হোসেন ও মাহফুজুল ইসলামকে বোল্ড করার পর পরের ওভারের প্রথম বলেই আরিদুল ইসলাম আকাশকে বোল্ড করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন আলিস। তিনটি উইকেটই আসে বোল্ড আউটের মাধ্যমে, যা হ্যাটট্রিককে আরও বিরল করে তুলেছে। ৯.২ ওভারে ১ মেডেনসহ মাত্র ২১ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন তিনি। তার ঘূর্ণিতে ১০৫ রানেই থেমে যায় গাজী গ্রুপের ইনিংস।
অন্যদিকে বিকেএসপির ২ নম্বর মাঠে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সকে উড়িয়ে দিয়ে টানা চতুর্থ জয় পেয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। এই ম্যাচে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন বাঁহাতি পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। ২২ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়ে বসুন্ধরার ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন তিনি। এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত এটিই সেরা বোলিং নৈপুণ্য।
মৃত্যুঞ্জয়ের সঙ্গে দারুণ বোলিং করেন সাইফউদ্দীন ও রিশাদ হোসেন। তারা দুজনই নেন দুটি করে উইকেট। তিন বোলারের সাঁড়াশি আক্রমণে মাত্র ৮০ রানেই অলআউট হয়ে যায় বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন নুরুল হাসান সোহান। এছাড়া আল আমিন জুনিয়র করেন ১৯ এবং আমিনুল ইসলাম বিপ্লব করেন ১৪ রান। জাতীয় দলের ওপেনার সাইফ হাসান ফেরেন শূন্য রানেই।
জয়ের জন্য মাত্র ৮১ রানের লক্ষ্য পেয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন মোহামেডানের দুই ওপেনার এনামুল হক বিজয় ও নাঈম শেখ। বিজয় ২৮ বলে অপরাজিত ৫০ রান করেন। নাঈম শেখ ২১ বলে ৩১ রান। তাদের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে মাত্র ৮.১ ওভারেই কোনো উইকেট না হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে মোহামেডান। টানা চতুর্থ জয়ে পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে ঐতিহ্যবাহী দলটি।










Discussion about this post