ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) এবারের আসরে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেডকে শুরু থেকেই ধরা হচ্ছিল অন্যতম ফেবারিট হিসেবে। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত সেই প্রত্যাশার ধারেকাছেও যেতে পারেনি ধানমন্ডির ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচেই হারের মুখ দেখেছে আবাহনী। দ্বিতীয় ম্যাচে সিটি ক্লাবের কাছে ২ উইকেটের নাটকীয় হারে হতাশা আরও বেড়েছে তাদের শিবিরে।
তবে হারলেও দিনের সবচেয়ে আলোচিত নাম ছিলেন আবাহনীর অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরির নতুন রেকর্ড গড়েছেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই অলরাউন্ডার। মাত্র ৪৯ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ভেঙেছেন ২০১৬ সালে মাশরাফি বিন মুর্তজার গড়া ৫০ বলের সেঞ্চুরির রেকর্ড। বাংলাদেশের মাটিতে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার চেয়ে কম বলে সেঞ্চুরি আছে শুধু ব্রায়ান লারা ও ব্রেন্ডন টেলরের।
আজ ক্রিকেটার্স একাডেমি মাঠে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ নেমে আসে ২৭ ওভারে। সেখানে ব্যাট হাতে বিধ্বংসী রূপ নেন মোসাদ্দেক। ২৮ বলে ফিফটি করার পর পরের ৫০ রান তুলে নেন মাত্র ২১ বলে। ৫০ বলে ১০১ রানের ইনিংসে ছিল ১০টি ছক্কা ও ৬টি চার। তার সঙ্গে জিসান আলম ৪৪ বলে ৫৪ রান করলে ৫ উইকেটে ২০৯ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় আবাহনী।
কিন্তু এত বড় রানও রক্ষা করতে পারেনি দলকে। সিটি ক্লাব ৭ বল ও ২ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। ওপেনার মেহেদী মারুফ ৫৬ বলে ৭১ রান করে জয়ের ভিত গড়ে দেন। শেষদিকে গাজী তাহজিবুল ২৮ বলে ৪০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। ব্যাট হাতে সেঞ্চুরির পর বল হাতেও তিন উইকেট নেন মোসাদ্দেক, তবু শেষ রক্ষা হয়নি আবাহনীর।
দিনের আরেক নায়ক সামিউন বাসীর। বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম লিস্ট ‘এ’ সেঞ্চুরি তুলে নেন এই তরুণ ব্যাটার। মাত্র ষষ্ঠ ম্যাচ খেলতে নেমে ৭০ বলে ১১৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ১০টি ছক্কা ও ৬টি চার।
সামিউন যখন ব্যাট করতে নামেন, তখন ২৭.২ ওভারে ৫ উইকেটে ১৭০ রান রূপগঞ্জের। সেখান থেকে তিনি ৩৭ বলে ফিফটি এবং ৬৪ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তার ঝড়ো ইনিংসে ৮ উইকেটে ৩৫৮ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ।
জবাবে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স ৪১.৩ ওভারে ২৭৫ রানে অলআউট হয়ে হারে ৮৩ রানে। দলের পক্ষে জিয়াউর রহমান ৩৮ বলে ৬১ রান করেন। ব্যাট হাতে সেঞ্চুরির পর বল হাতেও তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচের নায়ক বনে যান সামিউন।
অন্যদিকে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবও জয় তুলে নিয়েছে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে। ২১০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে ৫০ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। সেখান থেকে তাওহিদ হৃদয় ও তাইবুর রহমানের ১২৭ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় দল। হৃদয় ৮৫ বলে ৮২ এবং তাইবুর ১০০ বলে ৭৪ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটের জয় পায় মোহামেডান। এর আগে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে সোহাগ গাজী ৩৫ বলে ৫০ রান করেছিলেন।
ইউল্যাবে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবও জয় পেয়েছে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে। বৃষ্টির কারণে ৩৬ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে প্রাইম ব্যাংক ৯ উইকেটে তোলে ২০০ রান। জাতীয় দলের সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন ৬৬ বলে ৭৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। জবাবে গুলশানের মইনুল হোসেন ৫৭ বলে ৬৭ রান করলেও দল হারে ৩২ রানে। প্রাইম ব্যাংকের আলিস আল ইসলাম ও শামীম মিয়া নেন ৩টি করে উইকেট।
বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে রূপগঞ্জ টাইগার্সকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। মুনিম শাহরিয়ার ৫৮ বলে ৯২ এবং সাব্বির হোসেন ৭১ বলে ৭২ রান করে দলকে ৮ উইকেটে ২৮৫ রানের সংগ্রহ এনে দেন। জবাবে মাত্র ১০৩ রানে গুটিয়ে যায় রূপগঞ্জ টাইগার্স। রহস্য স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল ৯.১ ওভারে ৪ উইকেট নিয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও আলো ছড়ান।
অন্য ম্যাচে আগের রাউন্ডে আবাহনীকে হারানো ঢাকা লেপার্ড এবার হেরে গেছে অগ্রণী ব্যাংকের কাছে। ইমরুল কায়েসের ৬৪ ও জাহিদ জাভেদের ৬৬ রানে বড় সংগ্রহ পায় অগ্রণী ব্যাংক। রান তাড়া করতে নেমে সৈকত আলীর ৫৬ রান ছাড়া উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেনি লেপার্ড। ৩টি করে উইকেট নেন রবিউল হক ও আরিফ আহমেদ।









Discussion about this post