ক্রিকেট মাঠে ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষকে জবাব দেওয়াই ছিল তার পরিচয়। এখন সেই মানুষটিই বোর্ডরুমে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলছেন ব্যবস্থার ভেতরের অসাম্য আর অনিয়ম নিয়ে। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল যেন নতুন এক ভূমিকায়-যেখানে রান নয়, গুরুত্ব পাচ্ছে ন্যায় আর স্বচ্ছতা।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী দিনেই তার কণ্ঠে উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের এক বিতর্কের প্রসঙ্গ-‘কমিটি টিম’। ঘরোয়া ক্রিকেটে কিছু দলের প্রতি বিশেষ সুবিধার অভিযোগ বহুদিনের। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তামিম স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই ধারণার জায়গা আর রাখতে চান না তিনি।
তামিমের বক্তব্য, ‘এখন কোনো কমিটি টিম নেই, তাই না? কমিটি টিম এখন আর কোনো সমস্যা নয়। আপনাদের মনে রাখতে হবে যে, যেহেতু অতীতে এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তাই প্রতিপক্ষ দলগুলোও এর সুযোগ নেয়। এমনকি যখন কিছুই ঘটে না, যেহেতু বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে, তাই অনেকেই এটি বলে থাকেন। আমি আশা করি আমার অধীনে কমিটি টিমের মতো কিছু ঘটবে না। সবাই সমান এবং সবার সমান সুযোগ পাওয়া উচিত।’
এই ‘সমান সুযোগ’-এর কথাটা শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তিনি। বোর্ডের ভেতরের কার্যক্রমেও একই নীতির প্রয়োগ দেখতে চান। আর সেখানেই উঠে এসেছে এক অপ্রত্যাশিত বাস্তবতা-পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পারিশ্রমিক নিয়ে অসংগতি।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তামিম বলেন, ‘আমি একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী মহিলার কাছে শুনলাম যে তাদের ৩০০ টাকা দেওয়া হয়। গতকাল আমি বিসিবিতে গিয়ে জানতে পারলাম যে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ৬৫০ টাকা দেওয়া হচ্ছে, তাই আমি জিজ্ঞাসা করলাম কেন তাদের ৩০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে। আমি অবাক হয়েছিলাম। বিসিবির নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছে, তবে সিরিজের সময় বিসিবি টেন্ডারের মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষ নিয়োগ করে। যা ঘটে তা হলো, একটি কোম্পানি টেন্ডার পায় কিন্তু বিসিবির কর্মীরাই তখন ৩০-৪০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী সরবরাহ করে। কোম্পানিটি বিসিবির কাছ থেকে পেমেন্ট নেয় এবং তারপর তাদের মান অনুযায়ী কর্মীদের টাকা দিয়ে মুনাফা রেখে দেয়।’
এই চিত্র শুধু একটি সমস্যার কথা বলে না, বরং পুরো ব্যবস্থার দুর্বলতাও তুলে ধরে। সেই জায়গা থেকেই তিনি পরিবর্তনের রূপরেখা দিয়েছেন-পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতন দেওয়া, মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমিয়ে আনা এবং অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
তামিমের কথায় বারবার ফিরে আসে তাঁর অতীত। একজন খেলোয়াড় হিসেবে তিনি যেসব অনিয়ম দেখেছেন বা অনুভব করেছেন, এখন সেগুলো ঠিক করার দায় নিজের কাঁধেই নিচ্ছেন। তার স্পষ্ট স্বীকারোক্তি, ‘আমি এখানে বিসিবি সভাপতি হিসেবে শুধু আনন্দ করতে আসিনি। গত ১৭-১৮ বছর ধরে আমি বাইরে থেকে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। আমি যদি এখন সেগুলো সংশোধন না করি, তবে আমার আগের কথাগুলোর কোনো মূল্য থাকবে না।’










Discussion about this post