সিরিজ জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত তা হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ। মিরপুরে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৬ উইকেটে হারের পর ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে সিরিজ। তবে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে এসেছে অধিনায়ক লিটন দাসের খোলামেলা ও কিছুটা কঠোর মন্তব্য, বিশেষ করে দলের লোয়ার অর্ডার ব্যাটিং নিয়ে।
ম্যাচ শেষে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে লিটন দাস সরাসরি আঙুল তুলেছেন নিচের দিকের ব্যাটসম্যানদের দিকে। সিরিজ শুরুর আগেই তিনি তাদের কাছ থেকে অবদান চেয়েছিলেন, কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। লিটনের ভাষায়, ‘প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আমি একটা কথা বলেছিলাম যে লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব আছে। আমরা চাই তারা আমাদের ব্যাটিংয়ে ইনপুট দেবে। আজকে সুযোগ ছিল, কিন্তু আবারও ব্যর্থতা।’
তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের ইনিংসের শেষভাগে ধস নামার ঘটনাই যেন এই সমালোচনার বড় কারণ। শেষ দিকে ২৫ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ নষ্ট করে দল। এমন পরিস্থিতি নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই মনে করেন অধিনায়ক।
লোয়ার অর্ডারের ব্যাটিং দক্ষতা নিয়ে আরও খোলামেলা মন্তব্য করেছেন লিটন। স্পিনারদের বাড়তি দায়িত্ব নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পুরো দুনিয়াতে যারা স্পিনার হিসেবে খেলে, সব দলেই তারা সঙ্গে ব্যাটিংটাও করে। তা না হলে আপনাকে চায়নাম্যান বোলার হতে হবে, যে কিনা বোলিংয়ে মিরাকল কিছু ঘটাতে পারে। অনেক দলে এমন খেলোয়াড় থাকে, যারা শুধু বোলার হিসেবেই খেলে। মেহেদী তো ব্যাটিং পারে, কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমাদের ওই পারফরম্যান্সটা দরকার। একই ব্যাপার রিশাদ–নাসুমের ক্ষেত্রেও।’
সমস্যাটা যে শুধু সমালোচনায় থেমে নেই, বরং সমাধান খুঁজে পেতেও হিমশিম খাচ্ছে দল-সেটিও স্পষ্ট করেছেন তিনি। আদর্শ অলরাউন্ডারের অভাবের কথাও উঠে এসেছে তার কথায়, ‘বাংলাদেশে এ রকম কোনো খেলোয়াড় আপনার চোখে আছে, যে ৭ নম্বরে খেলবে, ৪ ওভার বোলিং করবে আবার ব্যাটিংও করতে পারবে? থাকলে বলবেন।’
তবে সমালোচনার পাশাপাশি আশাবাদও রেখেছেন অধিনায়ক। তিনি মনে করেন, রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব না হলেও উন্নতির সুযোগ আছে, ‘রাতারাতি তো সব বদল হবে না, এটা সম্ভবও নয়। কিন্তু ওরাও চেষ্টা করছে। আমি আশা করি যে বিশ্বকাপ আসতে আসতে কিছুটা হলেও উন্নতি হবে।’ ম্যাচে ভালো করলে আত্মবিশ্বাস বাড়বে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ম্যাচের প্রসঙ্গে আসলে, বৃষ্টির কারণে ১৫ ওভারে নেমে আসা খেলায় বাংলাদেশ ১০২ রানেই থেমে যায়। জবাবে নিউজিল্যান্ড শুরুতে ৪ উইকেট হারালেও বেভন জ্যাকবসের ৩১ বলে ৬২ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে সহজেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দর্শকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান লিটন দাস। তিনি বলেন, ‘থ্যাংকিউ (দর্শকদের)। অনেক দিন পরে মাঠটা ভালো লেগেছে, আপনারা এসেছেন। আশা করি পরেরবার আসলে আমাদেরকে সাপোর্ট করবেন এবং আমরা আপনাদের হাসিমুখে বিদায় দিতে পারব।’ একই সঙ্গে শরিফুল ইসলামের বোলিংয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ অবশ্যই, দুর্দান্ত ছিল। প্রতিদিন না হলেও সে যদি এভাবে বল করে যেতে পারে বাংলাদেশের জন্য অনেক ভালো হবে।’










Discussion about this post