নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সাফল্য বাংলাদেশের ক্রিকেটে যে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে, তার প্রতিফলন এবার দেখা গেল আইসিসির সর্বশেষ ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়েও। ওয়ানডে সিরিজে দাপুটে পারফরম্যান্সের পর বাংলাদেশের একাধিক ক্রিকেটার র্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন, যা দলের সম্মিলিত শক্তিরই ইঙ্গিত দেয়।
চট্টগ্রামে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে জয়ের মধ্য দিয়ে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। এই সাফল্যের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল পেস বোলারদের। নাহিদ রানা, মুস্তাফিজুর রহমান এবং শরীফুল ইসলামের ধারাবাহিক উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা নিউজিল্যান্ড ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রাখে পুরো সিরিজজুড়ে। এর ফল হিসেবে আইসিসি বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ দিয়েছেন এই তিনজনই।
নাহিদ রানা সিরিজে ৮ উইকেট নিয়ে শুধু ম্যাচেই নয়, র্যাঙ্কিংয়েও আলো ছড়িয়েছেন। ১৬ ধাপ এগিয়ে তিনি এখন শীর্ষ ৫০-এ জায়গা করে নিয়েছেন। ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে মুস্তাফিজুর রহমানের ৫ উইকেটের পারফরম্যান্স তাকে ১৪ ধাপ এগিয়ে দিয়েছে, আর শরীফুল ইসলামও ১১ ধাপ উন্নতি করে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। তিন পেসারের সম্মিলিত পারফরম্যান্সই সিরিজ জয়ের ভিত গড়ে দেয়।
ব্যাট হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। পুরো সিরিজে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে তিনি র্যাঙ্কিংয়ে ১১ ধাপ এগিয়ে গেছেন। তার সেঞ্চুরি শুধু ম্যাচ জিততেই সাহায্য করেনি, বরং তাকে ব্যাটারদের তালিকায় আরও ওপরে তুলেছে। লিটন দাসও পিছিয়ে নেই; ধারাবাহিক অবদান তাকে ১৫ ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।
অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে মেহেদী হাসান মিরাজ আবারও নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই অবদান রেখে তিনি অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়ে তিন নম্বরে উঠে এসেছেন, যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন। একই রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তিনি অবস্থান করছেন বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারদের কাতারে।
বিশ্ব ক্রিকেটের শীর্ষস্থানগুলোতে যদিও বড় পরিবর্তন আসেনি, তবু বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের এই অগ্রগতি ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। রশিদ খান, ড্যারিল মিচেল ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন, তবে তাদের পেছনে ব্যবধান কমানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। প্রথম ম্যাচে ম্যাচসেরা ইনিংস খেলে তাওহিদ হৃদয় র্যাঙ্কিংয়ে বড় উন্নতি করেছেন। পারভেজ হোসেন ইমন এবং মেহেদী হাসানও নিজেদের অবস্থান এগিয়ে নিয়েছেন, যা সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নতির প্রমাণ।










Discussion about this post