নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন পরিস্থিতি থেকে দারুণ এক জয়ের গল্প লিখেছে বাংলাদেশ। ৩ ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে কিউইদের ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল লিটন কুমার দাসের দল।
আজ চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৮৩ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা একেবারেই আশাব্যঞ্জক ছিল না স্বাগতিকদের। ওপেনিং জুটির ধীরগতির ব্যাটিং এবং দ্রুত উইকেট পতনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় কিউইদের দিকে। তবে মধ্য ও শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে আগ্রাসী মনোভাব দেখিয়ে ম্যাচ নিজেদের দিকে টেনে আনে বাংলাদেশ।
সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে ধীর সূচনা পায় বাংলাদেশ। পাওয়ারপ্লেতে তেমন গতি না আসায় চাপ তৈরি হয়। প্রথম উইকেট পতনের পরও রান তোলার গতি বাড়েনি। অধিনায়ক লিটন দাস কিছুটা চেষ্টা করলেও বড় ইনিংস গড়তে পারেননি। ১০ ওভারের কিছু পরেই ৭৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে জয়ের সম্ভাবনা তখন বেশ কঠিন হয়ে ওঠে।
এই সময়েই ম্যাচে মোড় ঘোরানোর সূচনা করেন পারভেজ হোসেন ইমন। সংক্ষিপ্ত কিন্তু কার্যকর ইনিংসে রানরেট বাড়িয়ে দেন তিনি। এরপর তাওহিদ হৃদয় ও শামীম হোসেন জুটি বেঁধে কিউই বোলারদের ওপর চড়াও হন। দুজনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দ্রুত কমতে থাকে রানসমীকরণ। বিশেষ করে শেষের দিকে শামীমের ঝড়ো ব্যাটিং ম্যাচকে পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
১৭তম ওভারে ম্যাথু ফিশারের ওপর তাণ্ডব চালিয়ে এক ওভার থেকেই ২৫ রান তুলে নেন শামীম, যা ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। এর আগে নাথান স্মিথের ওভারেও ছক্কা হাঁকিয়ে চাপ বাড়ান হৃদয় ও শামীম। শেষ তিন ওভারে যখন খুব কম রান প্রয়োজন, তখন আর কোনো ভুল করেনি বাংলাদেশ। ১২ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে দল।
হৃদয় ২৭ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থেকে ইনিংসের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন। অন্যদিকে শামীম ১৩ বলে ৩১ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। তাদের জুটি খুব অল্প সময়েই ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়।
এর আগে নিউজিল্যান্ড ইনিংসেও ছিল উত্থান-পতন। শুরুতেই উইকেট হারালেও কেতেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার দ্বিতীয় উইকেটে শক্ত ভিত গড়ে দেন। দুজনই সমান ৫১ রান করে দলকে বড় স্কোরের পথে এগিয়ে নেন। পরে অধিনায়ক নিক কেলি ৩৯ রান যোগ করেন। তবে মাঝের ওভারে নিয়মিত উইকেট হারানোয় নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮২ রানে থামে তাদের ইনিংস।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে রিশাদ হোসেন ছিলেন সবচেয়ে সফল, তিনি দুটি উইকেট নেন। অন্যদিকে শরিফুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন বোলার একটি করে উইকেট শিকার করেন।
এই জয়ে শুধু সিরিজে এগিয়ে যাওয়াই নয়, একটি রেকর্ডও গড়েছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এটিই তাদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের কীর্তি।










Discussion about this post