বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলতে এলে প্রতিপক্ষ দলগুলোর প্রস্তুতি প্রায় একই ছকে বাঁধা থাকে। স্পিনারদের ভিডিও দেখা, টার্নিং উইকেটের অনুশীলন, ধীরগতির বল সামলানোর পরিকল্পনা-সবকিছু যেন আগেই জানা। নিউজিল্যান্ডও নিশ্চয়ই সেই পরিচিত বাংলাদেশকেই মাথায় রেখে এসেছিল। কিন্তু মাঠে নেমে তারা দেখল, বাংলাদেশ বদলে গেছে।
এখন এই দল শুধু স্পিনের ওপর নির্ভর করে না। এখন তাদের হাতে আছে গতি, আছে আগ্রাসন, আছে নতুন বল থেকে পুরোনো বল পর্যন্ত আক্রমণ ধরে রাখার সামর্থ্য। আর সেই শক্তির কাছেই সিরিজ হারতে হলো নিউজিল্যান্ডকে।
তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশের পেসাররা নিয়েছেন ২২ উইকেট। দ্বিপক্ষীয় কোনো সিরিজে বাংলাদেশি পেসারদের এটিই সর্বোচ্চ। আগের রেকর্ড ছিল ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে ২১ উইকেট। এক দশক আগে যে রেকর্ডের বড় অংশ গড়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান, এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো আরও কয়েকটি নাম।
সবচেয়ে উজ্জ্বল নাহিদ রানা। তরুণ এই গতিতারকা তিন ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে হয়েছেন সিরিজসেরা। তাঁর বোলিংয়ে ছিল কাঁচা আগুনের মতো গতি, সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত লাইন। ব্যাটসম্যানরা জানতেন বল আসবে দ্রুত, তবু প্রস্তুত থাকতে পারেননি।
মুস্তাফিজুর রহমান দেখালেন কেন তাকে এখনো বাংলাদেশের সংকটের বোলার বলা হয়। সিরিজের শেষ ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়ে একাই ভেঙে দেন নিউজিল্যান্ডের প্রতিরোধ। শরিফুল ইসলাম নেন ৫ উইকেট, তাসকিন আহমেদ যোগ করেন ৩টি। সৌম্য সরকারও ছিলেন তালিকায়।
এই সাফল্যকে কাকতালীয় মনে করছেন না অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। সিরিজ শেষে তিনি বলেন, ‘আমাদের পেস ইউনিট বেশ কয়েক বছর ধরে খুব ভালো বোলিং করছে। তারা অনেক দিন ধরে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। দেশে ও বিদেশে আমাদের অনেক ম্যাচ জিতিয়েছে। আমি মনে করি, কোনো দলের যদি একটি ভালো পেস ইউনিট থাকে, তবে খেলার গতিপথ নিশ্চিতভাবেই বদলে যায়।’
বাংলাদেশ ক্রিকেটে একসময় নতুন বল মানেই ছিল বেঁচে থাকার লড়াই, আক্রমণের নয়। প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানরা শুরুটা সামলে নিলে পরে রান তুলতে অসুবিধা হতো না। এখন পরিস্থিতি উল্টো। নতুন বলে চাপ, মাঝের ওভারে ফাঁদ, শেষদিকে ভ্যারিয়েশন-সব মিলিয়ে পেস আক্রমণ এখন বাংলাদেশের বড় অস্ত্র।
মুস্তাফিজের এই সিরিজ আরও একটি কারণে বিশেষ। তৃতীয় ওয়ানডের পাঁচ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবার ওয়ানডেতে ফাইফার পেলেন তিনি। বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ এই কীর্তি এখনো তাঁর দখলে। বাঁহাতি পেসারদের তালিকায় তিনি ছুঁয়ে ফেলেছেন ওয়াসিম আকরাম ও ট্রেন্ট বোল্টকে।










Discussion about this post