বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) চারদিনের সংস্করণের নতুন মৌসুমের শুরুতেই ব্যাটারদের দাপট দেখা গেছে সিলেটের দুই ভেন্যুতে। উদ্বোধনী ম্যাচে মধ্যাঞ্চলের হয়ে আবু হায়দার রনি সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছেন। অন্যদিকে, আলাদা ম্যাচে অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের অর্ধশতকে বড় সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে দক্ষিণাঞ্চল।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মধ্যাঞ্চল প্রথম দিনে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৭২ রান তুলেছে। ইনিংসের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন আবু হায়দার রনি, যিনি ১১০ বল মোকাবিলা করে ৯০ রানে অপরাজিত রয়েছেন। ধীরস্থির ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে তিনি দলকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিজের তৃতীয় প্রথম শ্রেণির সেঞ্চুরির সম্ভাবনাও জাগিয়ে রেখেছেন।
তার সঙ্গে দুর্দান্ত সঙ্গ দিয়েছেন আশিকুর রহমান শিবলি। দুজন মিলে গড়েছেন ১৪৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শিবলি ১৫১ বলে ৭৫ রান করে অপরাজিত আছেন এবং তিনিও সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছেন। ইনিংসের শুরুতে ওপেনার সাদমান ইসলাম অনিক ১১৪ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলে ভালো ভিত গড়ে দেন।
অন্যদিকে, সাধারণত আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত জিসান আলম এদিন খেলেছেন ভিন্ন ধাঁচে। দীর্ঘ সময় ক্রিজে থেকে ৮০ বলে করেন মাত্র ১৪ রান, যেখানে প্রথম রান পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৫২ বল পর্যন্ত। তার এই ধৈর্যশীল ইনিংস দলীয় প্রয়োজনে ব্যাটিং কৌশলের পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দেয়।
পূর্বাঞ্চলের বোলারদের মধ্যে ইবাদত হোসেন চৌধুরী ও তোফায়েল আহমেদ দুটি করে উইকেট তুলে নিয়েছেন, তবে তারা মধ্যাঞ্চলের বড় জুটি ভাঙতে পারেননি সময়মতো।
একই সময়ে সিলেট একাডেমি মাঠে অনুষ্ঠিত অন্য ম্যাচে দক্ষিণাঞ্চল অলআউট হয়েছে ৩১৪ রানে। দলটি বড় সংগ্রহ পেলেও ব্যাটিং ছিল ছড়ানো-ছিটানো। অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ৭৩ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন, যা দলের একমাত্র অর্ধশতক। ইফতেখার হোসেন ইফতি ৪৯ এবং মইন খান ৩৬ রান করে দলকে সমর্থন দেন।
উত্তরাঞ্চলের হয়ে বোলিংয়ে উজ্জ্বল ছিলেন তাইজুল ইসলাম ও আব্দুল্লা আল মামুন, যারা তিনটি করে উইকেট শিকার করেন। সানজামুল ইসলাম দুটি উইকেট নেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দিন শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৬ রান সংগ্রহ করেছে উত্তরাঞ্চল, যা তাদের জন্য একটি স্থির সূচনা।










Discussion about this post