বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবার ২০২১ সালের এপ্রিলে মাঠে নামার পর দীর্ঘ চার বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন রুবেল হোসেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন এই অভিজ্ঞ পেসার। তবে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে সম্মাননা জানায়।
সোমবার মিরপুরের শেরে-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে শুরুর আগে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালসহ বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন ৩৬ বছর বয়সী এই সাবেক ক্রিকেটার।
সংবর্ধনার পর আবেগঘন কণ্ঠে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন রুবেল। তিনি বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে আমি পরিবার, গ্রাউন্ডসম্যান, কোচ থেকে শুরু করে সবাইকে শুভকামনা এবং ধন্যবাদ জানাতে চাই। ২০০৯ সালে অভিষেকের সময় আমার পাশে যারা ছিলেন তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি যখন জাতীয় দল থেকে অবসর নেই তখন আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল আমাকে ফোন দেন এবং আমাকে বলেন, ‘রুবেল তোকে আমরা বিদায়ী সংবর্ধনা দিতে চাই’। বিসিবিকে এমন আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।’
সংবর্ধনার কিছুক্ষণ পর মাঠে গিয়ে পিচ স্পর্শ করে আবেগ প্রকাশ করেন রুবেল। বিদায়ী বার্তায় তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেন তার বাবা-মা এবং তার ক্যারিয়ারের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কোচ সারোয়ার ইমরানকে।
আরও এক পর্যায়ে রুবেল বলেন, ‘অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পরবর্তী সময়ে তামিম ইকবাল ফোন দেয়, বলে রুবেল তোকে আমরা সম্মানিত করতে চাই। যে বিষয় আমার জন্য খুব গর্বের ও আনন্দের ছিল। আজ এত সুন্দর পরিবেশ তৈরি করেছে, এত সুন্দরভাবে সম্মানিত করেছে, এজন্য বোর্ড ও বোর্ড প্রেসিডেন্ট তামিম ইকবালকে ধন্যবাদ জানাই।’
কৃতজ্ঞতার প্রকাশে তিনি যোগ করেন, ‘একটা মানুষের কথা না বললেই নয়, যে মানুষের অবদান অন্যরকম এই রুবেল হোসেন হওয়ার পেছনে… পেসার হান্ট থেকে নিয়ে এসে আমাকে ওপরে উঠার সিঁড়ি ধরিয়ে দিয়েছেন, প্রিয় কোচ শ্রদ্ধেয় সারোয়ার ইমরান স্যার। স্যারের প্রতি সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকব। স্যারের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা এবং উনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। স্কুল পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সব কোচ, ফিজিও এমনকি গ্রাউন্ডসম্যান সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তারা আমাকে সবসময় সাহস দিয়েছেন, সাপোর্ট দিয়েছেন, পাশে ছিলেন।’
নিজের ব্যক্তিগত জীবনের আবেগঘন দিক তুলে ধরে রুবেল বলেন, ‘আজ এখানে দাঁড়াতে পেরেছি ২ জন মানুষের জন্য, আমার বাবা-মা। আমি তাদের আজ খুব মিস করছি। আমার বন্ধুবান্ধব যারা আমার বিপদে, খারাপ সময়ে পাশে ছিল; মিডিয়া কর্মী; যারা আমাকে উৎসাহ যুগিয়েছেন- আমার ভক্ত; সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমার শেষ জীবন পর্যন্ত এভাবে পাশে থাকবেন, অনুরোধ থাকবে।’
বাংলাদেশের হয়ে রুবেল ২৭টি টেস্ট, ১০৪টি ওয়ানডে ও ২৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন।










Discussion about this post