এক ম্যাচেই বদলে গেছে সিরিজের আবহ। শুরুতে তিন ম্যাচের লড়াই মনে হলেও এখন বাংলাদেশের সামনে দাঁড়িয়ে একটাই সমীকরণ-জিততে হবে। প্রথম ওয়ানডেতে হারের পর আজ দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিকরা। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল ১১টায় শুরু হবে ম্যাচটি। হারলে সিরিজ শেষ, জিতলে ফিরবে আশা। তাই আজকের দিনটি বাংলাদেশের জন্য নিছক আরেকটি ম্যাচ নয়।
সিরিজের প্রথম ওয়ানডের মতো আজ দ্বিতীয়টিতেও টস জিতলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম। আজও রান তাড়ায় ব্যাট করতে হবে বাংলাদেশকে।
বাংলাদেশ দলে একটি পরিবর্তন। আফিফ হোসেনের জায়গায় একাদশে সৌম্য সরকার। এটি লিটন দাসের শততম ওয়ানডে ম্যাচ।
প্রথম ম্যাচে ২৬ রানের হার ছিল হতাশার। নিউজিল্যান্ডের করা ২৪৮ রান তাড়া করার মতোই লক্ষ্য ছিল। কিন্তু ব্যাটিংয়ের অস্থিরতা, মাঝপথে উইকেট হারানো আর বড় জুটির অভাবে ৪৮.৩ ওভারে ২২১ রানে থেমে যায় বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে আফসোস ছিল-এই লক্ষ্য ছোঁয়া যেত।
সেই আফসোস নিয়েই আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ব্যাটারদের কাছ থেকে এবার বড় প্রত্যাশা। প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ হওয়া ব্যাটিং ইউনিটের ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। দলীয় পেসার শরিফুল ইসলামও সেটিই আশা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি পরের ম্যাচে ব্যাটাররা নিজেদের সেরাটা দিবে এবং দলের জন্য অবদান রাখবে।’
শরিফুল নিজে প্রথম ম্যাচে ছিলেন বাংলাদেশের সেরা পারফরমারদের একজন। মুস্তাফিজুর রহমানের ইনজুরিতে শেষ মুহূর্তে একাদশে সুযোগ পেয়ে দারুণভাবে কাজে লাগান তিনি। ১০ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। দীর্ঘ বিরতির পর ওয়ানডেতে ফিরে এমন পারফরম্যান্স তাঁর আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে।
তবে নিজের সাফল্যের চেয়ে দলীয় বোলিং নিয়েই বেশি ভাবছেন শরিফুল। তিনি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে আমরা যদি আরো ভালো বোলিং করতে পারতাম, তাহলে ব্যাটারদের জন্য কাজ আরও সহজ হতো। আশা করি, বোলিং ইউনিট হিসেবে আমরা আরও ভালো পারফর্ম করে ব্যাটারদের কাজ সহজ করে দেব।’
প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বোলাররা একেবারে খারাপ ছিলেন না। তাসকিন আহমেদ ২ উইকেট, রিশাদ হোসেন ২ উইকেট নেন। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাহিদ রানাও উইকেট পেয়েছেন। কিন্তু রান কিছুটা বেশি দিয়ে ফেলায় ব্যাটারদের ওপর চাপ বেড়ে যায়।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড আছে বেশ ফুরফুরে মেজাজে। তরুণ দল নিয়েও তারা প্রথম ম্যাচে নিয়ন্ত্রিত ক্রিকেট খেলেছে। আজ জিততে পারলেই সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যাবে। তাই কিউইদের লক্ষ্য স্পষ্ট-বাংলাদেশকে আর সুযোগ না দেওয়া।
নিউজিল্যান্ড পেসার ন্যাথান স্মিথ বলেন, ‘আমাদের জন্য এই সিরিজ জয় হবে অনেক বড় অর্জন। আমরা এখানকার কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিয়ে ভাল পারফরমেন্স করতে চাই। এই সিরিজের সাফল্য দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।’
মিরপুরের কন্ডিশন নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণও তাৎপর্যপূর্ণ। স্মিথ বলেন, ‘এই গরমে প্রথমে বোলিং করা কঠিন। ছোট-ছোট স্পেলে এবং দলীয় বোঝাপড়াই হবে মূল চাবিকাঠি। টস গুরুত্বপূর্ণ হবে। প্রথমে ব্যাট করে প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়ে চাপে রাখাই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।’
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে লড়াইয়ের ইতিহাসও কিউইদের পক্ষেই কথা বলে। দুই দল ৪৭ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে, নিউজিল্যান্ড জিতেছে ৩৫টিতে, বাংলাদেশ ১১টিতে। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত। ২০২৩ সালে বাংলাদেশের মাটিতেও সিরিজ জয়ের স্মৃতি আছে নিউজিল্যান্ডের।
বাংলাদেশের একাদশ: তানজিদ তামিম, সাইফ হাসান, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম।










Discussion about this post