বিতর্ক, অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত বিসিবি নির্বাচন ইস্যুতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন কিছুটা স্বস্তি আনলেও তৈরি করেছে নতুন প্রশ্ন। কাউকে অভিযুক্ত না করে শেষ হওয়া এই অনুসন্ধান এখন নির্ভর করছে আইসিসির অবস্থানের ওপর। দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়েছে। তবে বিষয়টি এখানেই শেষ হচ্ছে না, এখন দৃষ্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসির দিকে। কারণ বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।
সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ের আগেই তাদের অনুসন্ধান শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্তে বিসিবির নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হলেও এমন কোনো সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি, যা তাৎক্ষণিকভাবে বোর্ডের গঠন পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরপরই আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক ডাকা হয় এবং সেখানে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে সকালবেলা তদন্ত কমিটি এসে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়ে গেছে। আমরা দেওয়ার পরে তাৎক্ষণিকভাবে এখানে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের একটি সভা ডেকেছিলাম আমি। সেই সভায় আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি। আমাদের যে আইসিসি রয়েছে, সেই আইসিসিকে তদন্ত প্রতিবেদন অবগত করার পরই আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব ইনশা আল্লাহ।’
তদন্ত প্রক্রিয়ায় সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়ার অনুপস্থিতিও আলোচনায় এসেছে। তাকে ডাকা হলেও তিনি উপস্থিত হননি, যা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আমাদের কাছে জমা হয়েছে। তিনি অংশগ্রহণ করেননি। নিশ্চয়ই সেই তদন্ত প্রতিবেদনের মধ্যে রয়েছে। আমরা সেটা যাচাই-বাছাই করেছি যে তিনি উপস্থিত হননি। সেটিও আমি দেখেছি। সো এটা আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত আইসিসির সঙ্গে কথা বলে তারপরে সিদ্ধান্তগুলো আপনাদের জানাব।’
বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল গত অক্টোবরে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তামিম ইকবাল এবং তার সঙ্গে যুক্ত সংগঠকেরা। তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তদন্ত কমিটি গঠন করে, যার কাজ ছিল নির্বাচনে অনিয়ম বা কারসাজির সত্যতা যাচাই করা।










Discussion about this post