বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচনকে ঘিরে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের কার্যক্রম শেষ করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার আগেই এই প্রতিবেদন জমা দেওয়াকে তদন্তের অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও এর মধ্যেই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান একেএম আসাদুজ্জামান প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বলেন, ‘কাউকে অভিযুক্ত করে নয়, আমরা নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে সাক্ষাৎকারে ডাকা হয়েছিলো, তিনি আসেননি।’
তিনি আরও জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, ‘আমরা আমাদের সুপারিশ দিয়েছি। বিশেষ করে সম্পর্কগুলো কীভাবে আরও সুন্দর করা যায় এবং যেসব ভুল বা বিচ্যুতি পাওয়া গেছে তা কীভাবে সংশোধন করা সম্ভব, সে বিষয়ে আমরা নির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ করেছি। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গেই যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। উনারা সরাসরি না আসলেও আমাদের প্রশ্নের লিখিত উত্তর দিয়েছেন। রিপোর্টে এসব তথ্য আপনারা বিস্তারিত পেয়ে যাবেন।’
তদন্ত কমিটির কার্যক্রমে বিসিবির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নিলেও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এতে অংশ নেননি। এ নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি সরাসরি তদন্ত প্রক্রিয়ার বৈধতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি কেন বিসিবি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারে সাড়া দেইনি। প্রথমত, একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিসিবির উপর এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে তদন্ত করছে মন্ত্রণালয়। দ্বিতীয়ত, তদন্ত কমিটির প্রজ্ঞাপনেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন একটি বিষয়ে তদন্ত করে তদন্ত কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সকলে আদালত অবমাননা করছেন। চতুর্থত, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বোর্ড ডিরেক্টরদের পরের বোর্ডে ডিরেক্টর পদের লোভ, লোভে রাজি না হলে ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করাচ্ছেন।’
এছাড়া তদন্ত কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, ‘যখন আমাকে তদন্ত কমিটি থেকে সাক্ষাৎকাদের বিষয়ে জানানো হলো। তাদেরকে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয় এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তারা তদন্ত করতে পারেন কিনা জানতে চেয়ে কোন সদুত্তর পাইনি।’
নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘কিভাবে সরকার চালাতে হয়, কিভাবে প্রজ্ঞাপন দিতে হয়, কোনটা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, কোনটা বিচারাধীন বিষয়, কোনটা আদালত অবমাননা এটা হয়তো আপনারা বোঝেন না অথবা তোয়াক্কা করেন না। আমি তো আর জেনে-বুঝে এসব নিয়মবহির্ভূত আর আদালত অবমাননার মতো কাজে শামিল হব না। এজন্যই বিসিবি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারের নোটিশে আমি সাড়া দেইনি।’
বিসিবির নির্বাচনকে ঘিরে আগে থেকেই নানা অনিয়ম ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে এনএসসি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেয়। ক্লাব সংগঠকদের একটি অংশ নির্বাচন বয়কট করা এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে অচলাবস্থা তৈরি হওয়াও এই তদন্তের পেছনের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।










Discussion about this post