বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসর মাঠের লড়াই শেষ করলেও মাঠের বাইরের পুরোনো সমস্যার সমাধান হয়নি। আসর শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই আবার সামনে এসেছে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ। একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির বিরুদ্ধে বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থতার কথা উঠে আসায় নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিসিবি ২৭ জানুয়ারি সব ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে চিঠি পাঠিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে দেশি ও বিদেশি খেলোয়াড় এবং টিম ম্যানেজমেন্টের সব বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে পরিশোধের প্রমাণ হিসেবে একটি বিস্তারিত তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করবে বোর্ড।
টুর্নামেন্ট চলাকালে বিষয়টি প্রকাশ্যে তেমন আলোচনায় না এলেও, আসর শেষ হওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকটি দলের খেলোয়াড়। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের খেলোয়াড়দের দাবি, তারা এখনো চুক্তিভিত্তিক পারিশ্রমিকের মাত্র এক চতুর্থাংশ পেয়েছেন। কয়েকজন খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে প্রদত্ত চেক বাউন্স হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ঢাকা ক্যাপিটালসের খেলোয়াড়রাও আংশিক অর্থ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
তবে সব দলের চিত্র এক নয়। চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স তাদের খেলোয়াড়দের সব পাওনা পরিশোধ করেছে বলে জানা গেছে। রংপুর রাইডার্সে বড় ধরনের কোনো আর্থিক জটিলতা নেই। সিলেট টাইটান্সের খেলোয়াড়রা আংশিক অর্থ পেলেও পুরো পারিশ্রমিক এখনো বাকি। চট্টগ্রাম দলের খেলোয়াড়দের বকেয়া পারিশ্রমিক বিসিবি নিজ দায়িত্বে পরিশোধ করবে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।
বিপিএলের সদস্যসচিব ইফতেখার রহমান মিঠু জানিয়েছেন, কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি সময়মতো দায়িত্ব পালন না করলেও ব্যাংক গ্যারান্টি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি ব্যবহার করে খেলোয়াড়দের পাওনা পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনে বোর্ড সেই পথেই হাঁটবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বিপিএলে পারিশ্রমিক সংকট দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। আগের একাধিক আসরেও একই অভিযোগ ঘুরে ফিরে এসেছে। এবার বোর্ডের ঘোষণায় কড়াকড়ির বার্তা থাকলেও অতীত অভিজ্ঞতা খেলোয়াড়দের আশ্বস্ত করতে পারেনি। তাই ১২তম আসরের পরও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—বিপিএল কি এবার সত্যিই পারিশ্রমিক জটিলতার অধ্যায় পেছনে ফেলতে পারবে, নাকি কয়েক সপ্তাহ পর আবারও শোনা যাবে একই অভিযোগ, একই প্রতিশ্রুতি।










Discussion about this post