বাংলাদেশ ক্রিকেটে ফের ফিক্সিংয়ের অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিপিএল চলাকালীন সময়ে ফিক্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠার পর বিসিবির পরিচালক মোখলেছুর রহমান শামীম অডিট কমিটির চেয়ারম্যানসহ বোর্ডের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ক্রীড়া সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিমের অনুসন্ধানী ভিডিও প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এবারের বিপিএলের সিলেট পর্বে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের একটি ম্যাচ ঘিরে ফিক্সিং কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা ছিল মোখলেছুর রহমান শামীমের। রিয়াসাদ আজিম তার প্রতিবেদনে একাধিক অডিও কল রেকর্ড তুলে ধরেন, যেখানে ফিক্সিংয়ের পরিকল্পনা, স্পটারদের সমন্বয়, অর্থ লেনদেন এবং পুরো কার্যক্রম পরিচালনার চিত্র উঠে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, সিলেটের নূরজাহান হোটেলকে কেন্দ্র করে স্পটারদের একত্র করতেন শামীম এবং সেখান থেকেই ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সব সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করতেন।
নোয়াখালী এক্সপ্রেস দলের সঙ্গে যুক্ত তৌহিদ হোসেন ও ইমরান হাসানের বিরুদ্ধেও ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। বিসিবির নির্দেশনায় তাদের দল থেকে সরানো হলেও, প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, অন্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে কার্যক্রম চালু রাখেন শামীম। কল রেকর্ডে কে কোথায় অবস্থান করবে, কে কাকে কত টাকা দেবে এবং অগ্রিম অর্থ দেওয়ার বিষয় পর্যন্ত উঠে এসেছে বলে জানানো হয়।
এই অভিযোগ সামনে আসার পর মোখলেছুর রহমান শামীম নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি জানান, দেশের ক্রিকেট ও বিসিবির মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে স্বেচ্ছায় সব দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। অভিযোগ স্বীকার না করলেও একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন বিসিবির এই পরিচালক।
সবশেষ কয়েক বছরে বিপিএলে স্পট ফিক্সিং নিয়ে ধারাবাহিক অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এর আগে একাধিক ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তাদের নিলামে না রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের দায়িত্ব দেওয়া হয় অ্যালেক্স মার্শালকে। তবুও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি ফিক্সিংয়ের অভিযোগ, যা আবারও দেশের ক্রিকেট ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের পর সিলেট টাইটান্সের উপদেষ্টা ফাহিম আল চৌধুরীর করা অভিযোগও ফিক্সিং বিতর্ককে আরও উসকে দেয়। এর মধ্যেই বিসিবির বর্তমান পরিচালকের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।
বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে বোর্ডে প্রবেশ করা মোখলেছুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ এখন তদন্তের অপেক্ষায়।










Discussion about this post