বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার যেন ছিল স্নায়ুর পরীক্ষা। বড় মঞ্চে চাপ কে কতটা সামলাতে পারে, সেটিরই বাস্তব উদাহরণ দেখা গেল মিরপুরে। শেষ পর্যন্ত চাপের এই লড়াইয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে সিলেট টাইটান্সকে ১২ রানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহী শুরুটা করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। তানজিদ হাসান তামিমের আগ্রাসী ব্যাটিং শুরুতেই গ্যালারিতে উত্তেজনা ছড়ায়। সাহিবজাদা ফারহানের সঙ্গে তার জুটিতে দ্রুত রান আসে। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই রাজশাহী স্কোরবোর্ডে তুলে ফেলে ৬১ রান। তবে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে তানজিদ ও ফারহানের বিদায়ের পর ইনিংসে আসে অস্থিরতা।
এই অস্থিরতার মাঝেই রাজশাহীর হাল ধরেন কেইন উইলিয়ামসন। এক প্রান্ত আগলে রেখে তিনি খেলেন পরিণত ও হিসেবি ইনিংস। মাঝের ওভারে শান্ত, মুশফিক ও মেহেরবের উইকেট পড়লে মনে হচ্ছিল রাজশাহী বড় সংগ্রহ পাবে না। ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আসেন জিমি নিশাম। ঝুঁকি নেওয়া ও বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিংয়ের মিশেলে তিনি দ্রুত রান তুলতে থাকেন। নিশামের ২৬ বলে ৪৪ রানের ঝলমলে ইনিংসে রাজশাহী পৌঁছে যায় লড়াকু ১৬৫ রানে। উইলিয়ামসন অপরাজিত থেকে ইনিংস শেষ করেন ৪৫ রানে।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সিলেট টাইটান্স শুরুতেই নিজেদের বিপদ ডেকে আনে। প্রথম ওভারেই জাকির হাসান আউট হন, এরপর আরিফুল ইসলামও খাতা না খুলেই ফিরে যান। সাত রানের মধ্যে দুই উইকেট হারিয়ে সিলেট পড়ে যায় চাপে। সেই চাপ সামলাতে পারভেজ হোসেন ইমন ও স্যাম বিলিংস দায়িত্ব নেন। ধৈর্য আর পরিকল্পনার মিশেলে তারা ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন।
ইমন ছিলেন দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী। ধীরে ধীরে রাজশাহীর বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করছিলেন তিনি। কিন্তু ফিফটির কাছাকাছি গিয়ে তার বিদায় আবারও ম্যাচের গতি বদলে দেয়। এরপর মঈন আলী ব্যর্থ হলে সিলেটের রান তাড়ায় অনিশ্চয়তা ভর করে। বিলিংস ও আফিফ হোসেন ধ্রুবের জুটি কিছুটা আশা জাগালেও রাজশাহীর বোলিং আক্রমণের সামনে সে আশাও বেশিক্ষণ টেকেনি।
ম্যাচের শেষ ভাগে রাজশাহী বোলাররা দেখান তাদের পরিপক্বতা। আবদুল গাফফার সাকলাইন নিখুঁত লাইন-লেন্থে রান আটকে দেন। আর শেষ ওভারে বিনুরা ফার্নান্দোর বৈচিত্র্যময় স্লোয়ারে সিলেটের শেষ আশাটুকুও ভেঙে পড়ে। ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন বিনুরা।
ফিল্ডিংয়েও রাজশাহী ছিল এক ধাপ এগিয়ে। সাহিবজাদা ফারহান এক ম্যাচে পাঁচটি ক্যাচ নিয়ে বিপিএলের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।
সব মিলিয়ে ব্যাটিংয়ে পরিকল্পনা, বোলিংয়ে শৃঙ্খলা আর ফিল্ডিংয়ে তীক্ষ্ণতার সমন্বয়ে সিলেট টাইটান্সের যাত্রা থামিয়ে ফাইনালের মঞ্চে জায়গা করে নেয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। এখন শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে শুক্রবার তাদের সামনে চট্টগ্রাম রয়্যালস, যেখানে অপেক্ষা করছে আরেকটি বড় পরীক্ষা।










Discussion about this post