দরজায় কড়া নাড়ছে দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্টের সূচি আগেই প্রকাশ করেছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসি। তবে বাংলাদেশের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে এখন সেই সূচি পরিবর্তনের চাপ তৈরি হয়েছে, যা বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আইসিসির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে এবং একটি ম্যাচ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। কিন্তু ৩ জানুয়ারি মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
এরপরই নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আইসিসিকে চিঠি দিয়ে ভারতে নির্ধারিত ম্যাচগুলো অন্য ভেন্যুতে সরানোর অনুরোধ জানায়।
বাংলাদেশের এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, ভারতের দিক থেকেই ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়টি শুরু হয় এবং বাংলাদেশ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সঠিক। একই সঙ্গে আইসিসির ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন আফ্রিদি। ব্যঙ্গ করে অনেকের মতো তিনিও আইসিসিকে ‘ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, আইসিসি ভারতের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত সমাধান জরুরি বলেও মত দেন তিনি।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের প্রভাব নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। ২০২৪ থেকে ২০২৭ মেয়াদের আইসিসির বাণিজ্যিক মডেলে ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ রাজস্ব পাবে বিসিসিআই, যা অন্য যেকোনো বোর্ডের চেয়ে বেশি। অনেক সময় আইসিসি ইভেন্টের নকআউট পর্বে ভারতের ভেন্যু নির্ধারণেও তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন দেখা যায়। এসব কারণেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শক্তির ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপের প্রথম দিন ৭ ফেব্রুয়ারি ইডেন গার্ডেনসে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। একই মাঠে ৯ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ১৬ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে নির্ধারিত। এখন যদি এই চারটি ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হয়, তবে ‘বি’ গ্রুপের সূচিতেও পরিবর্তন আসতে পারে এবং কিছু ম্যাচ ভারতে ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
‘বি’ গ্রুপে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড, ওমান ও জিম্বাবুয়ে। আয়োজক হওয়ায় শ্রীলঙ্কা তাদের চারটি গ্রুপ ম্যাচই খেলবে ঘরের মাঠে। বাকি দলগুলোর কিছু ম্যাচ ভারতের ভেন্যুতে হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম, সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ও পাল্লেকেলে স্টেডিয়াম এই বিশ্বকাপের প্রধান শ্রীলঙ্কান ভেন্যু হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিসিসিআই ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে একটি ‘হাইব্রিড মডেল’ চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তির আওতায় ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আয়োজক পাকিস্তান হলেও ভারত তাদের ম্যাচ খেলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। একইভাবে ভারতে অনুষ্ঠিত নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তান খেলেছে শ্রীলঙ্কায়। যদিও ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে আয়োজক হওয়ায় এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আনুষ্ঠানিকভাবে হাইব্রিড মডেলের প্রয়োজন নেই, তবু বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি নতুন করে সেই বিতর্ক সামনে নিয়ে এসেছে।










Discussion about this post