ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি–টোয়েন্টিতে দুবাই ক্যাপিটালসের জার্সিতে সময়টা দারুণ কাটছে মুস্তাফিজুর রহমানের। শারজা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে দলের বড় জয়ের নেপথ্যে ছিলেন এই অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার। ম্যাচটি আলাদা মাত্রা পায় বাংলাদেশের দুই তারকা পেসার মুস্তাফিজ ও তাসকিন আহমেদের মুখোমুখি লড়াইয়ের কারণে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে থাকেন মুস্তাফিজ, আর দুবাই ক্যাপিটালস ৬৩ রানের ব্যবধানে হারিয়ে দেয় শারজাকে।
শারজার বিপক্ষে ম্যাচে অল্প সময় বোলিং করলেও মুস্তাফিজ ছিলেন কার্যকর ও নিয়ন্ত্রিত। মাত্র ২ ওভার বল করে ১৩ রান দিয়ে ২টি উইকেট তুলে নেন তিনি। এই পারফরম্যান্স দলের জয়ের পথ সহজ করার পাশাপাশি তাকে টুর্নামেন্টের সেরা বোলারদের তালিকায় জায়গা করে দেয়।
আইএল টি–টোয়েন্টিতে অভিষেকের পর থেকেই নিয়মিত ছন্দে আছেন মুস্তাফিজ। ৬ ডিসেম্বর গালফ জায়ান্টসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হয় তার এই যাত্রা। এরপর এক ম্যাচ ছাড়া প্রতিটিতেই ছিলেন মিতব্যয়ী। ১৩ ডিসেম্বর আবুধাবি নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচে কিছুটা খরুচে হলেও পরের ম্যাচগুলোতে আবারও পুরোনো ধারায় ফেরেন এই বাঁহাতি।
ছয় ম্যাচ শেষে মুস্তাফিজের উইকেট সংখ্যা ১১। ৮.১৯ ইকোনমিতে তিনি দিয়েছেন ১৭২ রান, যা তাকে সেরা বোলারদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রেখেছে। তালিকার শীর্ষে আছেন তার সতীর্থ ওয়াকার সালামখিল, যিনি সাত ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়েছেন। মুস্তাফিজের সমান ১১ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন খুজাইমা তানভীর, তার ম্যাচ সংখ্যা সাত।
এই টুর্নামেন্টে মুস্তাফিজের সবচেয়ে উজ্জ্বল বোলিং পারফরম্যান্স আসে এমআই এমিরেটসের বিপক্ষে। ১৭ ডিসেম্বর সেই ম্যাচে দুবাই অল্প ব্যবধানে হারলেও মুস্তাফিজ ৩৪ রান দিয়ে ৩টি উইকেট তুলে নেন।
মরুর লিগে এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এসেছে ক্যারিয়ারের বড় এক সাফল্যের প্রেক্ষাপটে। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ আইপিএল মিনি নিলামে মুস্তাফিজকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা। আইপিএলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মূল্য।










Discussion about this post