সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দারুণ ব্যাটিংয়ের পর বোলারদের আগুনে পারফরম্যান্সে এখন জয় প্রায় নিশ্চিত বলা চলে। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে আইরিশদের দ্বিতীয় ইনিংসের স্কোর ৮৬ রানে ৫ উইকেট। ইনিংস পরাজয় এড়াতে আরও ২১৫ রান করতে হবে তাদের।
তৃতীয় দিনের সকালটা শুরু হয় আয়ারল্যান্ডের সাফল্যে। আগের দিন থেকে শুরু করা মাহমুদুল হাসান জয় দিনের দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফেরেন। অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনের শর্ট লেংথের বলে ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ফেরার আগে ২৮৬ বলে ১৭১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন জয়, যার মধ্যে ছিল ১৪টি চার ও চারটি ছক্কা। তার বিদায়ের পরপরই মুমিনুল হকও ম্যাকব্রাইনের পরের ওভারে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ১৩২ বলে ৮২ রান করে।
জয়-মুমিনুলের পর বাংলাদেশের ইনিংসের হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। ধীরে-সুস্থে রান বাড়াতে থাকেন দুজন। শান্ত কিছুটা আক্রমণাত্মক মেজাজে খেললেও মুশফিক বরাবরের মতোই টেস্ট ঘরানার ব্যাটিংয়ে মনোযোগী ছিলেন। ৫৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শান্ত। তবে বেশি দূর যেতে পারেননি মুশফিক; ম্যাথু হামফ্রিসের বলে গালি অঞ্চলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন ২৩ রানে।
এরপর লিটন দাসের দ্রুত রান তোলার ইনিংস বাংলাদেশকে বড় স্কোরের পথে এগিয়ে দেয়। ৬৬ বলে ৬০ রান করে তিনি ফেরেন টেক্টরের দুর্দান্ত ক্যাচে। শান্ত ততক্ষণে তুলে নিয়েছেন নিজের অষ্টম টেস্ট সেঞ্চুরি-মাত্র ১১২ বলে ১৪টি চারে সাজানো ১০০ রান। তবে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেই এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ১৪১ ওভারে ৮ উইকেটে ৫৮৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করে, যা তাদের এনে দেয় ৩০১ রানের বিশাল লিড।
বাংলাদেশের ইনিংসে সবচেয়ে বড় অবদান মাহমুদুল হাসান জয়ের ১৭১ রানের ইনিংস। শান্ত করেন ১০০, মুমিনুল ৮২, লিটন ৬০ এবং ওপেনার সাদমান ৮০ রান। আয়ারল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন হামফ্রিস, যিনি ৫ উইকেট নেন ১৭০ রানে।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আইরিশরা শুরুতেই নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলামের বোলিংয়ে বিপর্যয়ে পড়ে। ওপেনার ক্যাডে কারমাইকেল মাত্র ৫ রান করে ফিরেন রানার বলে। অন্য ওপেনার পল স্টার্লিং কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ৫৯ বলে ৪৩ রান করেই নাজমুল হোসেন শান্তর সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হয়ে ফেরেন। এরপর তাইজুলের ঘূর্ণিতে এলবিডব্লিউ হন হ্যারি টেক্টর (১৮)।
শেষ দিকে হাসান মুরাদ আক্রমণে যোগ দিয়ে আরও বিপর্যয় নামান আইরিশ শিবিরে। তিনি ফিরিয়ে দেন কার্টিস ক্যাম্ফার (৫) ও উইকেটরক্ষক লরকান টাকারকে (৯)। দিনের শেষে ২৯ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৮৬ রান সংগ্রহ করে আয়ারল্যান্ড। এখনো তারা ২১৫ রানে পিছিয়ে।
বাংলাদেশের হয়ে মুরাদ নিয়েছেন ২ উইকেট, রানা ও তাইজুল নিয়েছেন ১টি করে। সব মিলিয়ে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের সুবাসে দুলছে সিলেট স্টেডিয়াম। আগামী দুই দিনে ছয় উইকেট তুললেই ইতিহাসের পাতায় আরও একটি ইনিংস জয় যোগ হবে টাইগারদের নামে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আয়ারল্যান্ড: ১ম ইনিংস: ২৮৬/১০ ও ২৯ ওভারে ২য় ইনিংস: ৮৬/৫ (স্টার্লিং ৪৩, টেক্টর ১৮; মুরাদ ২/৮)।
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৪১ ওভারে ৫৮৭/৮ ডি. (মাহমুদুল ১৭১, নাজমুল ১০০, মুমিনুল ৮২, সাদমান ৮০, লিটন ৬০; হামফ্রিস ৫/১৭০, ম্যাকার্থি ২/৭২)।










Discussion about this post