সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে দারুণ ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত করে ফেলেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের জোড়ালো পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তৃতীয় দিনেও ব্যাট হাতে দাপট দেখালেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। চা বিরতির আগেই তুলে নেন নিজের অষ্টম টেস্ট সেঞ্চুরি, তাতেই ভাগ বসান মুশফিকুর রহিমের একটি অনন্য রেকর্ডে।
দিনের শুরুতেই মাহমুদুল হাসান জয় ফিরে গেলে ক্রিজে আসেন শান্ত। শুরু থেকেই ছিলেন আত্মবিশ্বাসী ও সাবলীল। আগের দিন বাংলাদেশের ইনিংস গড়ে দেওয়ার পর আজ দায়িত্ব নিলেন তিনি, আর ব্যাটে ঝলকালেন অধিনায়কের মতোই। টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে এটাই তাঁর চতুর্থ সেঞ্চুরি, যা তাকে নিয়ে এসেছে সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের সমান উচ্চতায়।
শান্তের ইনিংসের শুরুটা আসে কিছুটা চাপে, কারণ জয় ও মুমিনুল মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে ফিরে গিয়েছিলেন। কিন্তু অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন তিনি। তাঁদের চতুর্থ উইকেট জুটিতে আসে ৭৯ রান। ২৩ রান করে মুশফিক ফিরলে ভাঙে জুটি, কিন্তু থামেননি শান্ত। এরপর লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে যোগ করেন ৯৮ রান।
লিটনও ব্যাট চালিয়েছেন ওয়ানডে ছন্দে। মাত্র ৬৬ বলে ৬০ রান করে ফিরেছেন ম্যাথু হামফ্রিসের বলে। তবে শান্ত তখনও অবিচল। অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনের করা ১২৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ২ রান নিয়ে পূর্ণ করেন টেস্ট ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি, যা আসে মাত্র ১১৪ বলে, ১৪টি চার দিয়ে সাজানো এক ঝলমলে ইনিংস। তবে সেঞ্চুরির পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি; পরের বলেই এলবিডব্লু হয়ে ফেরেন ঠিক ১০০ রানে।
দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ তুলেছে ১৭৮ রান, হারিয়েছে তিন উইকেট। ১৩৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৫৭৫। লিড বেড়েছে ২৮৯ রানে, প্রায় তিনশর কাছাকাছি। ইনিংসের শেষ দিকে ক্রিজে আছেন দুই অভিষিক্ত ক্রিকেটার হাসান মুরাদ ও হাসান মাহমুদ। মুরাদ ২৩ বলে ১২, আর মাহমুদ ১৯ বলে ১০ রানে অপরাজিত রয়েছেন।
চা বিরতির সময় বাংলাদেশের ইনিংসের চেহারা পরিষ্কার, লিড প্রায় ৩০০ রানের ঘরে, ইতিহাসের অন্যতম সেরা দলীয় স্কোরের পথে। টেস্টে এর চেয়ে বেশি রান বাংলাদেশ করেছে কেবল দুবার, ২০১৩ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬৩৮ এবং ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে ৫৯৫ রান।










Discussion about this post