বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তে নামল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নারী দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবি প্রথমে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল, যা পরে সম্প্রসারিত হয়ে এখন পাঁচ সদস্যে দাঁড়িয়েছে।
১২ নভেম্বর কমিটিতে যুক্ত হয়েছেন দুই বিশিষ্ট আইনজ্ঞ- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ল কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. নাইমা হক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান খান।
এর আগে কমিটিতে ছিলেন আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি তারিক উল হাকিম, বিসিবির পরিচালক রুবাবা দৌলা এবং ব্যারিস্টার সরওয়াত সিরাজ শুক্লা। নতুন দুই সদস্য যোগ হওয়ায় এখন পাঁচ সদস্যের একটি হেভিওয়েট তদন্ত কমিটি কাজ করবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে।
গত সপ্তাহে ক্রীড়া সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাহানারা আলম অভিযোগ করেন, নারী দলের সাবেক নির্বাচক ও টিম ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু একাধিকবার তাকে অশোভন প্রস্তাব দেন। সাক্ষাৎকারে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই সাবেক অধিনায়ক।
জাহানারা আরও দাবি করেন, তিনি বিসিবিকে একাধিকবার লিখিতভাবে অভিযোগ জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তার এই অভিযোগ প্রকাশের পর নারী দলের আরও কিছু সাবেক ক্রিকেটারও মুখ খুলতে শুরু করেন, ফলে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।
বিসিবি জানিয়েছে, তদন্ত কমিটি স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং অভিযোগের সব দিক যাচাই করে বোর্ডের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা হবে না।
তদন্ত কমিটির সভাপতি বিচারপতি তারিক উল হাকিমের তত্ত্বাবধানে কমিটি ইতিমধ্যে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাইয়ের মাধ্যমে পুরো ঘটনার সত্যতা বের করা হবে।










Discussion about this post