অলিখিত ফাইনাল, কিন্তু আবেগে একদম বড় টুর্নামেন্টর মতোই উত্তেজনা। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যেন নিজেদের প্রমাণের মঞ্চই তৈরি করেছিলেন। সিরিজে সমতায় থেকে শেষ ম্যাচে এসে ঠিক চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলল বাংলাদেশ। ব্যাটে-বলে আধিপত্য দেখিয়ে ১৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। সেই সঙ্গে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজও জিতে নিল ২-১ ব্যবধানে।
মিরপুরের ধীর, টার্নিং উইকেটে যেখানে আগের ম্যাচগুলোতে রান তুলতে হিমশিম খেতে হয়েছে, সেখানেই ব্যাট হাতে বিস্ফোরণ ঘটান দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসান। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাবে ব্যাট করে দলকে এনে দেন স্বপ্নের সূচনা। মাত্র ২৫.২ ওভারে তোলেন ১৭৬ রানের জুটি-যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি।
সাইফ ৭২ বলে ৮০ রান করে ফিরলেও, সৌম্য আরও কিছুক্ষণ থেমে ৮৬ বলে ৯১ রানে বিদায় নেন। দুজনেরই সামনে ছিল সেঞ্চুরির দোরগোড়া। তাদের এমন ব্যাটিংয়ের পর মনে হচ্ছিল, তিনশ পার করবেই বাংলাদেশ।
কিন্তু মধ্য ও শেষ ওভারে রান তোলায় কিছুটা ভাটা পড়ে। তাওহিদ হৃদয় (২৮), শান্ত (৪৪) ইনিংস গড়ার চেষ্টা করলেও উইকেট হারাতে থাকে ধারাবাহিকভাবে। শেষ দিকে নুরুল হাসান সোহান (১৬*) ও অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ (১৭) মিলে স্কোর দাঁড় করান ২৯৬-এ।
২৯৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও শুরু থেকেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবিয়ান ব্যাটারদের যেন এক অদৃশ্য জালে আটকে ফেলেন বাংলাদেশের স্পিনাররা।
নাসুম আহমেদ শুরুতেই তুলে নেন আথানাজে, ব্রেন্ডন কিং ও অগাস্টের উইকেট। তানভীর ইসলাম ফেরান শাই হোপকে, এরপর রিশাদ হোসেন তার লেগ স্পিনে মেলে ধরেন বিধ্বংসী রূপ। তার শিকার রাদারফোর্ড, কার্টি ও গ্রেভস। শেষ দিকে আকিল হোসেইন কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তা কেবল ব্যবধান কমানোরই চেষ্টা। ১৫ বলে ২৭ রানে শেষ ব্যাটার হিসেবেই বোল্ড হন মিরাজের বলে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ গুটিয়ে যায় ৩০.১ ওভারে ১১৭ রানে। ১৭৯ রানের এই জয় বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়।
২০২৩ সালে সিলেটে আয়ারল্যান্ডকে ১৮৩ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ-রানের ব্যবধানে সেটিই ছিল সর্বোচ্চ জয়। আজ মিরপুরে সেই রেকর্ড ছোঁয়ার সুযোগ ছিল মিরাজদের সামনে। তবে আকিল হোসেইন ও খারি পিয়েরের শেষ উইকেট জুটি (২০ রান) সেই স্বপ্নটুকু রোধ করে দেয়।
বাংলাদেশের সব ১০ উইকেটই নিয়েছেন স্পিনাররা। নাসুম ও রিশাদ ৩টি করে, মিরাজ ও তানভীর ২টি করে উইকেট। পেসার মুস্তাফিজুর রহমান একটি বলও করেননি! এই সাফল্যের পথ ধরে এবার উইন্ডিজের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজে লড়বে বাংলাদেশ!
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৯৬/৮ (সাইফ ৮০, সৌম্য ৯১, হৃদয় ২৮, শান্ত ৪৪, মাহিদুল ৬, রিশাদ ৩, নাসুম ১, সোহান ১৬*, মিরাজ ১৭; আকিল ১০-১-৪১-৪, চেইস ৮-১-৫৩-১, পিয়ের ১০-০-৪৬-০, গ্রেভস ৭-০-৬১-০, মোটি ৮-০-৫৩-১, আথানেজ ৭-০-৩৭-২)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩০.১ ওভারে ১১৭ (আথানেজ ১৫, কিং ১৮, ওগিস ০, কার্টি ১৫, হোপ ৪, রাদারফোর্ড ১২, চেইস ০, গ্রেভস ১৫, মোটি ৭, আকিল ২৭, পিয়ের ০*; নাসুম ৬-১-১১-৩, মিরাজ ৭-০-৩৫-১, তানভির ৮-০-১৬-২, রিশাদ ৯-০-৫৪-৩)।
ফল: বাংলাদেশ ১৭৯ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা: সৌম্য সরকার
সিরিজ: বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী।
সিরিজসেরা: রিশাদ হোসেন










Discussion about this post