আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটা যেন দুই গল্পের এক উপন্যাস। প্রথম অংশে উজ্জ্বল নায়ক, টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ৩-০ ব্যবধানে জিতে জয়ধ্বনি তোলে। কিন্তু দ্বিতীয় অধ্যায়ে সবকিছু উল্টে গেল। একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ হারল ৩-০ ব্যবধানে। শেষ ম্যাচে মাত্র ৯৩ রানে গুটিয়ে গিয়ে ২০০ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয়- যা পরিণত হলো এক বিব্রতকর রেকর্ডে।
আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের আলো নিভে যাওয়ার পরও মিরাজের কণ্ঠে লজ্জা ও হতাশার প্রতিধ্বনি স্পষ্ট ছিল। তিনি বললেন, ‘আমরা স্বীকার করছি, এই সিরিজে আমরা ভালো খেলতে পারিনি। আমাদের ভুল হয়েছে অনেক। সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারিনি। তাদের বোলিং ভালো ছিল, তবে আমাদের আরও ভালো খেলা উচিত ছিল।’
এ যেন আত্মসমালোচনার ভাষা- যেখানে দায় স্বীকার করে নেতৃত্বের ভার টের পাচ্ছেন তরুণ অধিনায়ক।
ব্যাটিংয়ের বিপর্যয় ছিল বাংলাদেশের পতনের মূল কারণ। প্রথম ওয়ানডেতে ২২১, দ্বিতীয়টিতে ১০৯, আর শেষ ম্যাচে ৯৩- প্রতিটি পরিসংখ্যান যেন একেকটি নিচের দিকে নামা সিঁড়ি। দলের একমাত্র উজ্জ্বল দিক সাইফ হাসানের ৪৩ রানের ইনিংস। বাকিদের রান এমন যে তা দেখলে ফোন নম্বর মনে হয়- ৭, ৩, ৭, ৬, ০, ২, ৪, ৫, ৯, ২।
মিরাজ জানেন, এই ব্যাটিংয়ে জেতা যায় না, ‘আপনি যদি রান করতে না পারেন, তাহলে জেতা সম্ভব নয়। ব্যাটিংয়ের শুরু থেকে মাঝের দিক পর্যন্ত সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। এখন আমাদের লক্ষ্য পরের সিরিজ।’
দীর্ঘদিন পর ওয়ানডে খেলা, সেটাকেও কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি, ‘৫০ ওভার খেলতে না পারলে ওয়ানডেতে জেতা অসম্ভব। আমরা অনেকদিন পর এই ফরম্যাট খেলেছি। সবাই ভাবছে, কীভাবে আবার নিজেদের জায়গায় ফেরা যায়।’
কিন্তু শুধু ফরম্যাট নয়, বাংলাদেশের সমস্যা এখন মানসিকও। একের পর এক পরাজয়, ব্যাটিং ব্যর্থতা, নেতৃত্বে নতুন চাপ- সব মিলিয়ে দলের মনোবল যেন ভেঙে পড়েছে। সর্বশেষ ১২ ওয়ানডের ১১টিতে হার, টানা চার সিরিজে পরাজয়, আর র্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে নেমে আসা- এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় বাংলাদেশ এখন কোন অবস্থানে দাঁড়িয়ে।
আফগানদের বিপক্ষে এই সিরিজ শেষে মিরাজের চোখ এখন সামনে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে। কিন্তু তার কণ্ঠে ভরসার চেয়ে উদ্বেগই বেশি, ‘আমরা ব্যাটিং নিয়ে চিন্তিত। রান না করলে জেতা সম্ভব না। টপ ও মিডল অর্ডারের সবাইকে নিয়মিত পারফর্ম করতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে কীভাবে ভালো করা যায়, সেটিই এখন ভাবছি।’
২০০ বা তার বেশি রানে হার- বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগেও পাঁচবার হয়েছে। এবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেই তালিকায় যোগ হলো আরেকটি অধ্যায়। পার্থক্য শুধু, এবার দলের নেতৃত্বে নতুন মুখ, কিন্তু ব্যর্থতার চিত্র পুরোনোই!










Discussion about this post