ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) এবারের আসরে সাকিব আল হাসানের যাত্রা থেমে গেল এলিমিনেটরে। বাংলাদেশ সময় আজ সকালে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের কাছে ৯ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনস। নতুন দলে যোগ দিয়েও নিজের পরিচিত ছন্দে ফিরতে পারেননি বাংলাদেশি অলরাউন্ডার।
দুই মৌসুম পর সিপিএলে ফিরে অ্যান্টিগার হয়ে খেলেছেন সব কটি ম্যাচ। মোট ১১ ম্যাচের ১০ ইনিংসে ব্যাট হাতে করেছেন ১৮০ রান, গড় মাত্র ২০। পুরো টুর্নামেন্টে তার একমাত্র ফিফটি এসেছিল সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে ২০ বলে। সেই ইনিংসটিই ছিল সাকিবের ক্যারিয়ারের দ্রুততম অর্ধশতকের একটি এবং স্ট্রাইক রেটও ছিল ২৩৪.৬১-যা স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে তাঁর সেরা। কিন্তু সেই আলোছটার পর আর ব্যাটে রান ঝরেনি। ১০ ইনিংসে মাত্র তিনবার ২০ ছাড়াতে পেরেছেন তিনি। এলিমিনেটরে অবশ্য ৯ বলে অপরাজিত ২৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছিলেন, যেখানে সুনীল নারাইনের এক ওভার থেকে নিয়েছিলেন ১৮ রান।
বল হাতে সাকিবের অবস্থা আরও ম্লান। পুরো আসরে পেয়েছেন মাত্র ৬ উইকেট, ইকোনমি রেট ছিল ৮.৩০। তাঁকে দিয়ে করানো হয়েছে মাত্র ২৩ ওভার-অধিকাংশ ম্যাচেই ব্যবহার করা হয়েছে পার্টটাইম বোলার হিসেবে। কেবল দুই ম্যাচে পূর্ণ কোটার ওভার করতে পেরেছেন তিনি। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ উইকেট নিয়েছেন ইমরান তাহির (১৮টি)। সেই তুলনায় সাকিবের পারফরম্যান্স অনেকটাই হতাশাজনক।
অবশ্য এবারের ১৮০ রানই সিপিএলের এক মৌসুমে সাকিবের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। কিন্তু টুর্নামেন্টে রান করার সুযোগ থাকলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। ব্যাটিং অর্ডারের চার থেকে ছয় নম্বরে নিয়মিত নেমেও নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এর আগে পাকিস্তান সুপার লিগ ও গ্লোবাল সুপার লিগে খেলে আসেন তিনি। পিএসএলে তিন ম্যাচে দুইবার শূন্য রানে আউট হয়ে আত্মবিশ্বাস হারিয়েছিলেন। জিএসএলে প্রথম ম্যাচে ফিফটি করলেও বাকি ইনিংসগুলোতে ব্যর্থ হন। সেই ধারাবাহিক ব্যর্থতাই যেন ছাপ ফেলেছে এবারের সিপিএল অভিযানে।
২০১৩ থেকে শুরু করে এটি ছিল সাকিবের ষষ্ঠ সিপিএল মৌসুম। বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টস, জ্যামাইকা তালাওয়াস ও গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের পর এবার অ্যান্টিগার হয়ে খেললেন তিনি।










Discussion about this post