প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ। তবে সেই দীর্ঘ বিরতি কাটতে যাচ্ছে বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম। দ্য গার্ডিয়ান ও দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছরের মে মাসে অ্যাশেজ সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি টেস্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে কয়েক মাসের ব্যবধানে দুই দলের মধ্যে তিনটি টেস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে। কারণ, আগামী ফেব্রুয়ারিতে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সফরে এসে দুটি টেস্ট খেলার কথা রয়েছে ইংল্যান্ডের।
প্রস্তাবিত টেস্টটি আয়োজনের জন্য সবচেয়ে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে আলোচনায় রয়েছে লর্ডস। তবে বিষয়টি নির্ভর করছে আগামী বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের ভেন্যু নির্বাচনের ওপর। ইসিবি এখনও ফাইনালের মাঠ চূড়ান্ত করেনি। লর্ডসের পরিবর্তে যদি ফাইনাল ওভালে সরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টটি লর্ডসে আয়োজনের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।
লর্ডসকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কও এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। সম্প্রতি ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার টেস্টে উইকেটের আচরণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। অতিরিক্ত বোলিং সহায়ক পিচে ম্যাচ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় আইসিসি মাঠটিকে ‘অসন্তোষজনক’ হিসেবে মূল্যায়ন করে এবং একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেয়। এরপর থেকেই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজনের পেছনে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য মূলত অ্যাশেজের আগে নিজেদের প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর করা। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি অতিরিক্ত টেস্ট আয়োজনের চেষ্টা করেছিল ইসিবি। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা এগিয়েছে। ইংল্যান্ড মনে করছে, সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের উন্নতি তাদের জন্য আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রস্তুতির সুযোগ তৈরি করবে।
এই মূল্যায়ন বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক বার্তা। একসময় বাংলাদেশকে টেস্ট ক্রিকেটের মান নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের সাবেক ওপেনার জিওফ বয়কট বাংলাদেশকে টেস্টের উপযুক্ত দল নয় বলেও মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা বদলেছে। ঘরের মাঠে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট খেলা এবং বিদেশের মাটিতেও উন্নতির ছাপ রাখায় এখন বাংলাদেশকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে ইংল্যান্ড।
দুই দলের টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা স্মৃতি ২০১৬ সালের মিরপুর টেস্ট। সেই ম্যাচে মেহেদী হাসান মিরাজের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল টাইগাররা। সিরিজটিও শেষ হয়েছিল ১-১ সমতায়। অথচ সেই সিরিজের পর গত এক দশকে দুই দলের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটের যোগাযোগ ছিল খুবই সীমিত।
এদিকে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও সাম্প্রতিক সময়ে ইংলিশ কন্ডিশনে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছেন। কাউন্টি ক্রিকেটে পেসার হাসান মাহমুদের পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে। ফলে ইংল্যান্ড সফরের সম্ভাবনা ঘিরে ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।









Discussion about this post