রোজা রেখে ক্রিকেট খেলা সহজ কাজ নয়, বিশেষ করে ওয়ানডে ফরম্যাটে যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে মনোযোগ ও শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে হয়। সেই কঠিন চ্যালেঞ্জই গ্রহণ করে সদ্য সমাপ্ত বিসিএল ওয়ানডের ফাইনালে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন সাইফ হাসান। ২৭ বছর বয়সী এই ব্যাটার উত্তরাঞ্চলের বিপক্ষে খেলেন গুরুত্বপূর্ণ ৮৮ রানের ইনিংস, যা দলের জয়ে রাখে বড় ভূমিকা। টুর্নামেন্ট শেষে জানা গেছে, পুরো বিসিএলজুড়েই তিনি রোজা রেখে খেলেছেন।
রোজা রেখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পারফর্ম করার নজির অবশ্য আছে। কিছুদিন আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলেছিলেন সিকান্দার রাজা। জিম্বাবুইয়ের এই তারকা জানিয়েছিলেন, রোজা রেখে খেললে তার শক্তি আরও বেড়ে যায়। সাইফের ক্ষেত্রেও কাজ করেছে মানসিক দৃঢ়তা ও বাড়তি আত্মবিশ্বাস, যদিও বাস্তবতা ছিল কঠিন। বিশেষ করে বগুড়া ও রাজশাহীতে লিগ পর্বের ম্যাচগুলো দিনের বেলায় হওয়ায় হাইড্রেশন ধরে রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
ফাইনাল ম্যাচটি ছিল দিবারাত্রির, ফলে ব্যাটিংয়ের আগে ইফতার করার সুযোগ পান সাইফ। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, কিছুটা তো আত্মবিশ্বাস দেয়। রোজার মধ্যে খেলাটা কিছুটা কষ্ট ছিল। এই ম্যাচ যেহেতু দিবারাত্রির ম্যাচ ছিল, একটু নির্ভার ছিলাম। এক ইনিংস কষ্ট করতে হয়েছে, পরে রোজা ভেঙে খেলছি। ফুল ডে ম্যাচে হাইড্রেশনে একটু সমস্যা হচ্ছিল। সব মিলে ভালো প্রস্তুতি হয়েছে।’
রোজা রেখে খেলার ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস ও হাইড্রেশনের পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার আলোকে সাইফকে সহায়তা করেছেন মুশফিকুর রহিম। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে রমজান মাসে রোজা রেখেই খেলেছেন এই সিনিয়র ক্রিকেটার। সাইফ জানান, রোজা রেখে খেলার প্রস্তুতি নিয়ে তিনি মুশফিকের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন।
সাইফ বলেন, ‘যেহেতু রোজা রেখে খেলেছি সব ম্যাচ, রোজা রাখার আগে মুশফিক ভাইর সাথে কথা বলেছি। তিনি তো সবসময় রোজা রেখে খেলেন, মিস দেন না। উনার থেকে নেওয়ার চেষ্টা করেছি কীভাবে প্রস্তুতি নেন। আগের দিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এসব নিয়েই কথা হয়েছে।’










Discussion about this post